শেয়ারবাজারে শতকোটি টাকার কারসাজির অভিযোগে তদন্ত আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আলোচিত এই ঘটনায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিভিন্ন নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতেই এসব নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, লেনদেনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগের উৎস এবং বাজারে প্রভাব বিস্তারের কৌশল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের মামলার তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে পরিকল্পিত কারসাজির মাধ্যমে প্রায় ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে সেই শেয়ার বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক ব্যক্তি ও একটি প্রভাবশালী চক্র একসঙ্গে কাজ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি, বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা এবং নির্দিষ্ট শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধেও প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আলোচিত কারসাজিকারী আবুল খায়ের হিরুর মাধ্যমে কয়েকটি বিমা ও শিল্প খাতভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সমন্বিত কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা এখন সেই বিনিয়োগের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করছেন।
দুদক সূত্র বলছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যাংক হিসাব, শেয়ার লেনদেনের রেকর্ড, বিও হিসাবের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনুসন্ধান চালানো হতে পারে। তদন্ত শেষে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে মামলায় অতিরিক্ত অভিযোগও যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গত বছরের ২৫ জুন এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক মামলা করে দুদক। এর আগে একই বছরের এপ্রিলে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হয়। দুদকের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৮ সালে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণায় দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত ছিলেন সাকিব আল হাসান। পরে বিভিন্ন বিতর্কের পর ২০২২ সালে তার সঙ্গে দুদকের চুক্তি নবায়ন করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই কারসাজি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। বড় অঙ্কের এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যন্ত কতদূর এগোয়, এখন সেদিকেই নজর বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের।

