শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডভুক্ত প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড চলতি হিসাব বছরে মুনাফা বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ফলে টানা দ্বিতীয় বছর শেয়ারহোল্ডাররা কোনো রিটার্ন পাচ্ছেন না।
২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ পয়সায়, যা আগের বছর ছিল ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ আয় কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা লভ্যাংশ বিতরণের পর্যায়ে যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বেড়ে ১৬ টাকা ৯১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৬ টাকা ১১ পয়সা। এতে সম্পদের ভিত্তি কিছুটা শক্তিশালী হলেও বিনিয়োগকারীদের নগদ রিটার্ন না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে পরিচালন নগদ প্রবাহে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৬১ পয়সায় নেমে এসেছে, যেখানে আগের বছর এটি ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ আহরণ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মুনাফা থাকলেও নগদ প্রবাহ দুর্বল হলে লভ্যাংশ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ব্রোকারেজ ও সিকিউরিটিজ খাতে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেলে আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ না দেওয়ায় তাদের আস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী ২৩ জুলাই ডিজিটাল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ জুন। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অনেক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের আয় ওঠানামা করছে। ফলে শুধু মুনাফা নয়, নগদ প্রবাহ এবং টেকসই ব্যবসায়িক সক্ষমতাও এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

