দেশের শেয়ারবাজারে আবারও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব প্রধান সূচকে উত্থান হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ দিনের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত।
দিনের শুরু থেকেই বাজারে ক্রয়চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি দেখা যায়। এর প্রভাবে অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক গতি তৈরি হয় এবং পুরো বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকে শেষ পর্যন্ত।
লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডিএসইতে মোট ১৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৩১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৬টির দাম। বিমা খাতে ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশের শেয়ারদর বেড়েছে, যেখানে মাত্র ১১টির দর কমেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়—বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বেড়েছে।
বাজারের এই ইতিবাচক প্রবণতার ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২২২ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচকও সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৬১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাছাই করা শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচকও অল্প পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৮৪১ কোটি টাকার বেশি, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা বেশি। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে ২১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, যা সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই উত্থান আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিলেও এটি মূলত নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতনির্ভর। বিশেষ করে বিমা ও আর্থিক খাতের শেয়ারে অতিরিক্ত চাহিদা বাজারের সামগ্রিক গতি নির্ধারণ করছে। ফলে ভবিষ্যতে অন্যান্য খাতের পারফরম্যান্স বাজারের স্থায়িত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

