সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে ওঠানামার মধ্যেও মূল্যসূচকে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবারের লেনদেনে দাম কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকলেও বড় ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারের ইতিবাচক পারফরম্যান্স বাজারকে উঁচুতে টেনে তোলে।
লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ে। একই সময়ে তুলনামূলকভাবে ভালো ও বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে।
ফলে দিনের শেষে দাম কমার তালিকায় বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান থাকলেও সূচক ইতিবাচক অবস্থানে থাকে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত করে যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের চেয়ে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে দাম বাড়া ও কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় সমান থাকলেও বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ারের উত্থান সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চলতি সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিনই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এতে বোঝা যায়, বাজারে ধীরে ধীরে আস্থা ফিরে আসছে এবং বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট কিছু শক্তিশালী শেয়ারে অবস্থান নিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই ধরনের পরিস্থিতি সাধারণত নির্দেশ করে যে ক্ষুদ্র ও দুর্বল শেয়ারের তুলনায় স্থিতিশীল আয় ও শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি থাকা কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, সামগ্রিক বাজার স্থিতিশীল না হলে এই ধরনের ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
সব মিলিয়ে, দিনশেষে শেয়ারবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থার কিছুটা উন্নতি নির্দেশ করলেও বাজার এখনো নির্বাচিত শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছে।

