নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন দেখা গেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার লেনদেনের শুরুতে কিছুটা চাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত জ্বালানি, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) এবং বস্ত্র খাতের শেয়ারের চাহিদা বাড়ায় বাজারে বড় ধরনের উত্থান ঘটে।
একই সঙ্গে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়ে দেড় হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে প্রথম কার্যদিবসের দরপতনের পর অনেক বিনিয়োগকারী অপেক্ষাকৃত সম্ভাবনাময় খাতের শেয়ারে নতুন করে আগ্রহ দেখান। এর ফলে দ্বিতীয় কার্যদিবসে বাজারে ক্রয়চাপ বাড়ে এবং তা শেষ পর্যন্ত সূচকের ইতিবাচক গতিধারা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়লেও কিছু সময়ের মধ্যেই বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এতে প্রধান মূল্যসূচক সাময়িকভাবে নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। তবে দিনের মধ্যভাগ থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে থাকে। জ্বালানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বস্ত্র খাতের শেয়ারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় বাজার আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দিনের সমাপ্তি ঘটে উল্লেখযোগ্য সূচক বৃদ্ধির মাধ্যমে।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের এবং ৫৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র চারটির। একইভাবে জ্বালানি খাতের ১৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে তিনটির। অন্যদিকে বস্ত্র খাতেও শক্তিশালী অবস্থান দেখা গেছে। এ খাতের ৩২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে।
এই ইতিবাচক প্রবণতার প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে নির্বাচিত বড় কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচকও ৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য গতি ফিরেছে। রোববার ডিএসইতে মোট ১ হাজার ৫৩০ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ৯১ কোটি টাকা বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের এই বৃদ্ধি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এ বাজারের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৯৭ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৯৬টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সিএসইতেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। রোববার সেখানে মোট ৬৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ বাজারেও লেনদেনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে জ্বালানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বস্ত্র খাতে ক্রয়চাপ বাড়া থেকে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা সম্ভাবনাময় খাতগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
তবে তারা মনে করেন, একটি দিনের উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ধারাবাহিকভাবে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ বজায় থাকলে বাজারে স্থিতিশীল ইতিবাচক ধারা তৈরি হতে পারে। অন্যথায় সাময়িক উত্থান আবারও মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় চাপের মুখে পড়তে পারে।
সামগ্রিকভাবে নতুন অর্থবছরের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের দুই শেয়ারবাজারেই সূচক, লেনদেন এবং দাম বাড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন এই ধারা আগামী কার্যদিবসগুলোতেও অব্যাহত থাকে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের।
প্রয়োজনে এটিকে আরও অনুসন্ধানমূলক বিশ্লেষণ, বিশেষজ্ঞ মতামত বা খাতভিত্তিক ব্যাখ্যা যোগ করে ১,২০০–১,৫০০ শব্দের ফিচারেও রূপান্তর করা যেতে পারে।

