পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ান ব্যাংক পিএলসির উদ্যোক্তা পরিচালক জহুর উল্যাহ তাঁর মালিকানাধীন ৭৭ লাখ ৮০ হাজার ৫০০টি শেয়ার কন্যা ও ব্যাংকটির সাধারণ শেয়ারধারী লামিসা লামিয়ার নামে উপহার হিসেবে হস্তান্তর সম্পন্ন করেছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের বাইরে এই শেয়ার স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারগুলো পারিবারিক উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ কারণে নিয়মিত বাজারে কোনো লেনদেনের মাধ্যমে নয়, বরং ট্রেডিং সিস্টেমের বাইরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মালিকানা পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। ওই বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮ পয়সা, যা আগের বছরের ১ টাকা ২৪ পয়সা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) বেড়ে হয়েছে ২২ টাকা ৪৬ পয়সা।
এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও ব্যাংকটি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। সে বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৪ পয়সা, যা ২০২৩ সালের পুনর্মূল্যায়িত ১ টাকা ৯ পয়সার তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। ২০২৪ সালের শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২২ টাকা ৪৩ পয়সা।
এর আগে ২০২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ এবং ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ব্যাংকটির পর্ষদ। ওই বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৩৩ পয়সা, যেখানে আগের বছরের পুনর্মূল্যায়িত আয় ছিল ১ টাকা ৫১ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছিল ১৯ টাকা ৯ পয়সা।
২০২২ হিসাব বছরে ব্যাংকটি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ প্রদান করে। ওই বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৫৯ পয়সা, যা আগের বছরের পুনর্মূল্যায়িত ৮৬ পয়সার তুলনায় বেশি। ২০২২ সালের শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৯ টাকা ১৫ পয়সা।
ওয়ান ব্যাংক ২০০৩ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৫ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকটির রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ৩২৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
ব্যাংকটির মোট শেয়ারের সংখ্যা ১০৬ কোটি ৫৮ লাখ ২১ হাজার ৮৮৭টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩০ দশমিক ৯৪ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ৪৩ দশমিক ১৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট ২৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

