বিনিয়োগ ও শেয়ার লেনদেনের জগতে এবার নতুন মাত্রা যোগ করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। জার্মানির একটি অনলাইন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের জন্য এমন এক সুবিধা চালু করেছে, যার মাধ্যমে জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেই বিনিয়োগ পোর্টফোলিও বিশ্লেষণ এবং শেয়ার কেনাবেচার নির্দেশনা দেওয়া যাবে।
গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি এই নতুন সেবার ঘোষণা দেয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইউরোপের ব্যাংকিং খাতে এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম। এত দিন গ্রাহকেরা কেবল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই লেনদেন করতে পারতেন। এখন থেকে সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় পক্ষের এআই সহায়তা।
কীভাবে কাজ করবে এই ব্যবস্থা? নতুন পদ্ধতিতে গ্রাহকেরা এআই চ্যাটবটের সাহায্যে নিজের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করতে পারবেন। এমনকি নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বিভিন্ন লেনদেনও সম্পন্ন করা যাবে চ্যাটবটের মাধ্যমে। এতে বিনিয়োগকারীদের প্রতিটি তথ্য আলাদাভাবে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন কমে আসবে। বাজার-সংক্রান্ত বিশ্লেষণ কিংবা সম্পদের অবস্থান বুঝতেও সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি।
গ্রাহকদের আর্থিক তথ্য ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার দিকটিকেও গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ভাষ্যমতে, এই সেবা চালুর আগে বেশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা তথা সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতে, এই উদ্যোগ মূলত গ্রাহকদের মধ্যে বিনিয়োগে এআই ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলার একটি প্রাথমিক প্রচেষ্টা। তার ভাষ্যে, অনেকেই এখনো নিজের বিনিয়োগ তথ্য এআইয়ের হাতে তুলে দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাই নিজস্ব অ্যাপে সরাসরি এআই সুবিধা যুক্ত করার আগে এটি একধরনের পরীক্ষামূলক ধাপ হিসেবে কাজ করবে।
তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে বিনিয়োগ খাতে এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়লে সার্বিকভাবে বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন বাড়তে পারে। তবে এই ধারণা বাস্তবে কতটা সত্যি প্রমাণিত হবে, তা এখনো সময়ই বলে দেবে।
বিশ্বজুড়ে আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষণ, ঝুঁকি নিরূপণ ও তথ্য যাচাইয়ের মতো কাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জার্মান প্রতিষ্ঠানটির নতুন উদ্যোগ সেই ধারাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিল। বিশেষ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যাতে জটিল তথ্য সহজে বুঝতে পারেন, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।
তবে এআই-নির্ভর বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকির দিকটিও উপেক্ষা করার নয়। এআইয়ের বিশ্লেষণ সবসময় নির্ভুল হবে, তার নিশ্চয়তা নেই। বাজারের গতিপ্রকৃতিও অনেক সময় পূর্বাভাসের বাইরে চলে যায়। তাই এআইয়ের পরামর্শের পাশাপাশি নিজস্ব বিচার-বিবেচনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে গ্রাহকসংখ্যা দশ লাখের বেশি। তাদের ব্যবস্থাপনাধীন সম্পদের পরিমাণ ষাট বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সবচেয়ে বিস্তৃত হলেও ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসেও তাদের সেবা চালু রয়েছে।
জার্মানির ব্যাংকিং খাতে আগে থেকেই প্রতিযোগিতা তীব্র। এই ধরনের নতুন প্রজন্মের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী বিনিয়োগের পথ খুলে দিয়েছে।
এবার তার সঙ্গে যুক্ত হলো এআই চ্যাটবটনির্ভর বিনিয়োগ পরিচালনার নতুন সুবিধা। ফলে আগামী দিনে ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ খাতে মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক কতটা নিবিড় হয়ে উঠবে, তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে এই উদ্যোগকে।

