সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেনে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ায় সার্বিক লেনদেন আগের দিনের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। তবে বড় মূলধনের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় প্রধান সূচকগুলোতে একমুখী ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। ফলে দিন শেষে বাজারে মিশ্র চিত্র ফুটে ওঠে।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৯টির দর কমেছে এবং ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সবচেয়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। ৩২টি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বেড়েছে, মাত্র একটি কমেছে এবং একটি অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ প্রদানকারী ভালো মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ৯৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৮৬টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। একইভাবে মধ্যম মানের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৩টির দর বেড়েছে, ২৪টির কমেছে এবং ৭টির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিতে না পারা কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা গেছে। এই শ্রেণির ৫৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৩৯টির কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সূচকের হিসাবে প্রধান সূচক সামান্য ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও অন্য দুটি সূচক নিম্নমুখী ছিল। প্রধান সূচক ০.২০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে। তবে নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১৩ পয়েন্টে নেমেছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচকও ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
লেনদেনের দিক থেকে বাজারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দিন শেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং কেনাবেচার গতি কিছুটা ফিরে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারে, যার পরিমাণ ৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে এসিআই ফর্মুলেশনস, যেখানে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা এশিয়াটিক ল্যাবরেটরির শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক মূল্যসূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৭টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ৬৬টির কমেছে এবং ৩৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দিলেও বড় মূলধনের শেয়ারে বিক্রির চাপ থাকায় সূচক এখনো স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী ধারা তৈরি করতে পারেনি। আগামী কার্যদিবসগুলোতে বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ক্রয়চাপ বাড়লে বাজারের সামগ্রিক অবস্থার আরও উন্নতি হতে পারে।

