জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবার পুঁজিবাজারেও প্রকট আকার ধারণ করল। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) খোলার সময়েই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭১১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ও ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৪২ এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
কারখানা বন্ধ ও বিকল্প জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিনিয়োগকারীদের মনে। গ্যাস সংকটে নরসিংদীতে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা কাঠ পুড়িয়ে উৎপাদন চালাচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা কমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তাই এখন বেশ সতর্ক। অনেকেই শেয়ার কেনার পরিবর্তে বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন, অনেকে আছেন ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ মোডে। মাত্র ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে, ২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বাজারের বিস্তৃতিও নেতিবাচক। ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে, অন্যদিকে মাত্র ১০৮টির দর বেড়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ৯৩টি প্রতিষ্ঠান। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র। সিএসইর সার্বিক সূচক ক্যাস্পি ৫৫৩ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৭৬ এবং সিএসসিএক্স ৩০ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকট যতদিন থাকবে, ততদিন পুঁজিবাজারের এই অস্থিরতা থেকেই যাবে। উৎপাদন ব্যাহত হলে কোম্পানির মুনাফা কমবে, আর মুনাফা কমলে শেয়ারের দর পড়বে, এই সরল সমীকরণটিই এখন বাজারকে নিচের দিকে টেনে আনছে। বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় আছেন, কবে গ্যাসের চাপ ফিরে আসে, কবে কারখানাগুলো পুরোদমে উৎপাদনে ফেরে। ততদিন পর্যন্ত এই পতনের ধারা চলতেই পারে।

