সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস আজ রোববার দেশের শেয়ারবাজারে দেখা গেছে বড় ধরনের দরপতন, যার নেতৃত্বে ছিল বিমা খাত। শুধু বিমা নয়, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ, বস্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মিউচুয়াল ফান্ডসহ প্রায় সব খাতেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।
ব্যাপক এই দরপতনের প্রভাবে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচকে বড় ধস নেমেছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণে সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান, ফলে সেখানেও মূল্যসূচক ও লেনদেন—উভয়ই কমেছে।
তবে দিনের শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্রের। লেনদেন শুরুর সময় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়তির দিকে ছিল, ফলে সকালের দিকে সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু দুপুর বারোটার পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে। প্রথমে একের পর এক বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম কমতে থাকে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য খাতেও। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দরপতনের মাত্রা বাড়তেই থাকে, শেষ পর্যন্ত পুরো বাজারই বড় ধরনের ধসের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ করে।
দিনশেষে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সব খাত মিলিয়ে মাত্র বত্রিশটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দাম কমেছে তিনশ চব্বিশটির এবং অপরিবর্তিত ছিল ত্রিশটির। এর মধ্যে বিমা খাতের অবস্থা ছিল সবচেয়ে নাজুক—মাত্র দুটি কোম্পানির দাম বেড়েছে, আর পঞ্চান্নটিরই দাম কমেছে, একটির দাম ছিল অপরিবর্তিত।
লভ্যাংশের ভিত্তিতে ভালো মানের বা দশ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বারোটির দাম বেড়েছে, একশ সত্তরটির দাম কমেছে এবং তেরোটি অপরিবর্তিত থেকেছে। মাঝারি মানের বা দশ শতাংশের কম লভ্যাংশদাতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাতটির দাম বাড়লেও পঁয়ষট্টিটির দাম কমেছে এবং দুটি অপরিবর্তিত ছিল। লভ্যাংশ না দেওয়া তথাকথিত ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে তেরোটির দাম বেড়েছে, বিরাশিটির কমেছে এবং পনেরোটি অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে চারটির দাম বাড়ার বিপরীতে তেইশটির দাম কমেছে, সাতটি অপরিবর্তিত থেকেছে।
এই ব্যাপক দরপতনের প্রভাবে ঢাকার প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় তেষট্টি পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার সাতশ বাইশ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বাছাই করা ভালো তিরিশটি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক সতেরো পয়েন্ট কমে দুই হাজার একশ পঁয়তাল্লিশ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আর শরিয়াহভিত্তিক সূচকও পনেরো পয়েন্ট কমে এগারোশ চল্লিশ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচকে বড় পতন হলেও লেনদেনের পরিমাণে কিন্তু কিছুটা বৃদ্ধি দেখা গেছে। আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে সাতশ এগারো কোটি চৌদ্দ লাখ টাকার, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ছয়শ একাত্তর কোটি আটানব্বই লাখ টাকা—অর্থাৎ প্রায় ঊনচল্লিশ কোটি টাকা বেশি।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে প্রায় সাড়ে ছত্রিশ কোটি টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রানার অটোমোবাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে পঁচিশ কোটি একাত্তর লাখ টাকার, আর তৃতীয় স্থানে থাকা ফার কেমিক্যালসের লেনদেন হয়েছে তেইশ কোটি ষোলো লাখ টাকার। শীর্ষ দশের তালিকায় আরও ছিল সায়হাম টেক্সটাইল, শিকদার ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো, লাভেলো আইসক্রিম, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, মালেক স্পিনিং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক একষট্টি পয়েন্ট কমেছে। এই বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া দুইশ আঠারোটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটচল্লিশটির দাম বেড়েছে, একশ ঊনপঞ্চাশটির কমেছে এবং একুশটি অপরিবর্তিত ছিল। এখানে মোট লেনদেন হয়েছে ছয় কোটি ছেচল্লিশ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবসের আঠারো কোটি নব্বই লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

