সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। রোববার লেনদেন শেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় একশ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্টের কিছুটা নিচে, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ পতন।
দিনের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাজারে সার্বিকভাবে বিক্রির চাপ ছিল প্রবল। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর সিংহভাগেরই শেয়ারদর কমেছে, বিপরীতে দাম বেড়েছে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। বাকিগুলোর দর ছিল অপরিবর্তিত।
শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএসও একই সঙ্গে নিম্নমুখী হয়েছে, প্রায় দুই শতাংশ কমে নেমে এসেছে সাড়ে এগারোশ পয়েন্টের নিচে। এদিকে বাছাই করা ত্রিশটি শীর্ষ কোম্পানির সূচক ডিএস৩০-ও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, মূল্যসূচকে বড় পতন সত্ত্বেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণে বরং কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় এদিন মোট লেনদেনের অঙ্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ কোটি টাকার বেশি, যা নির্দেশ করে পতনের বাজারেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সক্রিয়তা কমেনি।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই দিনে দরপতনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। তবে এখানে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় বেড়ে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে, দাম বেড়েছে অল্প কয়েকটির এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের দর ছিল স্থির।
সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআইও এদিন দেড়শ পয়েন্টের বেশি কমে নেমে এসেছে পৌনে পনেরো হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি, যেখানে আগের কার্যদিবসে এই সূচকের পতন ছিল সামান্যই।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে টানা এই দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক অস্থিরতার প্রতিফলন হতে পারে, তবে লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণ এখনো অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে সূচকের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে কি না, তা নিয়ে সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

