কোম্পানিটি ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন জমা দিয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শেয়ারের দাম ধরা হয়েছে ৪০ টাকা। এর মধ্যে অভিহিত মূল্য ১০ টাকা এবং প্রিমিয়াম ৩০ টাকা। অর্থাৎ, অভিহিত মূল্যের চেয়ে প্রতি শেয়ারে ৩০ টাকা বেশি দামে শেয়ার ছাড়তে চায় প্রতিষ্ঠানটি। আইপিওটির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক শান্তা ইক্যুইটি।
প্রস্তাবিত প্রসপেক্টাসের তথ্য অনুযায়ী, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে ৬৫ কোটি টাকা কারখানা ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে, ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনায় এবং বাকি ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আইপিও-সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
পার্কওয়ে প্যাকেজিং মূলত তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঢেউখেলানো কাগজের কার্টন ও প্যাকেজিং পণ্য তৈরি করে। কোম্পানির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০০৮ সালে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার কার্টন উৎপাদনের সক্ষমতার কথা জানিয়েছে। দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পে প্যাকেজিংয়ের চাহিদা থাকায় এ খাতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ কোম্পানিটির ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।
কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলও প্রস্তাবিত শেয়ারদর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের আয় আগের বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ওই অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় ৩ টাকা ৭৪ পয়সা। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ছিল ৩৪ টাকা ৪ পয়সা। প্রস্তাবিত ৪০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি হলে তা শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যের চেয়ে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি হবে। তবে এ দাম ও আইপিওর শর্ত এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসাপেক্ষ।
আইপিওর মাধ্যমে ডিবিএল গ্রুপের আরও একটি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর আগে গ্রুপটি পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের পাশাপাশি আরেক প্রতিষ্ঠান থানবি প্রিন্ট ওয়ার্ল্ডকেও শেয়ারবাজারে আনার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। তবে পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের প্রস্তাবিত শেয়ার ইস্যু, অর্থ সংগ্রহ এবং মূল বাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়টি বিএসইসির পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।

