বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালের লেনদেনে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫৯ পয়েন্টের বেশি। একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে দুই বাজারের মধ্যে ডিএসইতে দরবৃদ্ধির বিস্তার ছিল বেশি। সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইতে ৩৩৫টি সিকিউরিটিজের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে মাত্র ১১টির। অন্যদিকে সিএসইতে ২৯টি সিকিউরিটিজের লেনদেনের মধ্যে ২১টির দাম বেড়েছে।
সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৪৩ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ। বড় কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ১১ দশমিক ০৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ শুধু প্রধান সূচক নয়, বড় কোম্পানি ও শরিয়াহভিত্তিক শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
সকালের এই সময়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ সময় ৩ কোটি ৪১ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেন হয়েছে ২৯ হাজার ৯০১টি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দরবৃদ্ধি পাওয়া সিকিউরিটিজের সংখ্যা দরপতনের তুলনায় অনেক বেশি। ৩৩৫টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দাম। সাধারণত সূচকের উত্থানের পাশাপাশি এত বেশি শেয়ারে দরবৃদ্ধি বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণের বিস্তৃত ইঙ্গিত দেয়। তবে লেনদেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়, তা দেখার বিষয়।
খাতভিত্তিক চিত্রেও ডিএসইতে বেশির ভাগ খাতে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বিবিধ খাতের সূচক, প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতে উত্থান ছিল প্রায় ২ শতাংশ করে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, তথ্যপ্রযুক্তি, বীমা এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতেও দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পতন ছিল। অর্থাৎ বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা বেশ কয়েকটি খাতে ছড়িয়ে পড়লেও সব খাত সমানভাবে এগোয়নি।
অন্যদিকে সকাল ১০টা ৩৪ মিনিটে সিএসইর সিএসসিএক্স সূচক দাঁড়ায় ৮ হাজার ৭৬৫ দশমিক ০৬ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ সময় সিএসইতে মোট ২৯টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২১টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল একটির দাম। অর্থাৎ সিএসইতেও দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা দরপতনের তুলনায় বেশি ছিল।
সিএসইতে ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। মোট লেনদেন হয়েছে ৯৬টি এবং শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি। কোম্পানিভিত্তিক দরবৃদ্ধির তালিকায় এনভয় টেক্সটাইলস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং ওরিয়ন ইনফিউশনের মতো কোম্পানি ছিল। এসব শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে সিএসইতে তখন পর্যন্ত লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের সংখ্যা কম থাকায় পুরো বাজারের প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
সকালের তথ্য অনুযায়ী, দুই পুঁজিবাজারেই সূচক ও শেয়ারের দামে ইতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ও দরবৃদ্ধির বিস্তার বেশি হওয়ায় সেখানে ক্রেতাদের সক্রিয়তা তুলনামূলক স্পষ্ট। সিএসইতেও ইতিবাচক সূচক দেখা গেলেও লেনদেনের পরিসর এখনো ছোট। দিনের বাকি সময়ে এই উত্থান ধরে রাখা যায় কি না, লেনদেনের গতি বাড়ে কি না এবং দরবৃদ্ধি আরও বেশি কোম্পানিতে ছড়িয়ে পড়ে কি না, সেটিই হবে বিনিয়োগকারীদের নজর রাখার বিষয়।

