বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনশেষে দেশের দুই পুঁজিবাজারে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ৫৭ পয়েন্টের বেশি। পাশাপাশি অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল স্পষ্ট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দিনশেষে দরপতন হওয়া সিকিউরিটিজের সংখ্যা দরবৃদ্ধি পাওয়া সিকিউরিটিজের দ্বিগুণেরও বেশি। অর্থাৎ একদিকে ডিএসইতে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়লেও সিএসইতে বিক্রির চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৪১ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৮ শতাংশ। বড় কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচকও ১৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩৭ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ ডিএসইর প্রধান সূচকের পাশাপাশি বড় কোম্পানি ও শরিয়াহভিত্তিক শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল।
ডিএসইতে দিনজুড়ে প্রায় ৫১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এদিন প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার হাতবদল হয় এবং মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭১০টি। লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে ২৮৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৫০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল আরও ৫০টির দাম। অর্থাৎ সূচকের উত্থান শুধু কয়েকটি বড় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল না, বরং বাজারের বড় একটি অংশেই দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।
খাতভিত্তিক চিত্রেও ডিএসইতে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সূচক প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। বস্ত্র খাত বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে উত্থান ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রকৌশল, ব্যাংক, বীমা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সামান্য পতন ছিল। কোম্পানিভিত্তিক লেনদেনে স্পিরিট সিরামিকস, পুবালী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল।
সিএসইর দিনশেষের বাজার সারাংশে মোট ১৮১টি সিকিউরিটিজে লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪৫টির দাম বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দাম। অর্থাৎ ডিএসইর বিপরীতে সিএসইতে দরপতনের বিস্তার ছিল অনেক বেশি। সেখানে মোট লেনদেন হয়েছে ১৩০৫টি, শেয়ার হাতবদল হয়েছে প্রায় ২৪ লাখ ৭৪ হাজার এবং টাকার অঙ্কে লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
সিএসইতে কোম্পানিভিত্তিক দর পরিবর্তনেও এই ভিন্নতা দেখা গেছে। ওরিয়েন্টাল অ্যাপ্লায়েন্সেস ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ করে বেড়েছে। অন্যদিকে শুরউইড ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে ১০ শতাংশ এবং অ্যাডভেন্ট ফার্মা ও ইনডেক্স অ্যাগ্রোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। ফলে কিছু কোম্পানিতে ভালো দরবৃদ্ধি থাকলেও সামগ্রিক বাজারে বিক্রির চাপ বেশি ছিল।
দিনশেষের দুই এক্সচেঞ্জের হিসাব থেকে বোঝা যায়, দেশের পুঁজিবাজারে একই দিনে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ধরন এক রকম ছিল না। ডিএসইতে সূচক বাড়ার সঙ্গে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়েছে। সিএসইতে আবার দরপতন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তবে দুই এক্সচেঞ্জের সূচক আলাদা পদ্ধতিতে হিসাব করা হয়, তাই শুধু পয়েন্টের পরিবর্তন দিয়ে তাদের সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। বাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ এবং কতগুলো শেয়ারের দাম বাড়ল বা কমল, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

