Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, নভে. 6, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » পুঁজিবাজারে ২০৭ কোম্পানির মধ্যে ১৪৭টির হিসাব নিয়ে নিরীক্ষকদের প্রশ্ন
    পুঁজিবাজার

    পুঁজিবাজারে ২০৭ কোম্পানির মধ্যে ১৪৭টির হিসাব নিয়ে নিরীক্ষকদের প্রশ্ন

    নিউজ ডেস্কনভেম্বর 4, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। হিসাবের অসংগতি, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ না করা এবং নিরীক্ষকদের আপত্তির কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে কোম্পানিগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা কতটা স্বচ্ছ, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া ২০৭টি কোম্পানির মধ্যে ১৪৭টির হিসাবেই নিরীক্ষা আপত্তি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় ৭১ শতাংশ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো না কোনো ধরনের অসংগতি রয়েছে। বিপরীতে মাত্র ৫৯টি কোম্পানি কোনো নিরীক্ষা আপত্তি ছাড়াই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

    শুধু হিসাবের গরমিল নয়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়েও নিরীক্ষকেরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্ভরযোগ্য আর্থিক তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    কোম্পানির আর্থিক হিসাবে বড় ধরনের অসংগতি

    বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আয়, মুনাফা, দায়, নগদ অর্থের প্রবাহ এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এসব তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল হলে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

    নিরীক্ষকদের আপত্তির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ পাওয়া গেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক প্রতিবেদনে। ২০২৫ সালের হিসাব নিরীক্ষার সময় কোম্পানিটির প্রায় ২৭৪ কোটি টাকার আর্থিক তথ্য যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেননি নিরীক্ষকেরা।

    এ ছাড়া স্থায়ী সম্পদ, মজুত পণ্য, অগ্রিম অর্থ এবং পাওনা হিসাবের ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সহায়ক নথির অভাব পাওয়া যায়। এসব কারণে নিরীক্ষকেরা নেতিবাচক মতামত দিয়েছেন এবং কোম্পানিটির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

    ন্যাশনাল ফিড মিলসের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনেও বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। কোম্পানিটি আর্থিক হিসাবে কাঁচামাল কেনার পরিমাণ দেখিয়েছে ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অথচ মূল্য সংযোজন করের হিসাবে একই খাতে কেনাকাটার পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা।

    নিরীক্ষকদের মতে, এই পার্থক্যের কারণে কোম্পানির প্রকৃত ক্রয়মূল্য কম দেখানো এবং মুনাফা বেশি দেখানোর আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ঋণের সুদ, আর্থিক ব্যয় এবং মজুত পণ্যের মূল্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি পাওয়া গেছে। ফলে নিরীক্ষকেরা শর্তযুক্ত মতামত দিয়েছেন।

    এ বিষয়ে কোম্পানিটির ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি সচিব মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ২০২৫ সালের হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকেরা। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার স্থায়ী আমানতের মধ্যে ৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের ৭৪৭টি স্থায়ী আমানত রসিদের বিষয়ে ব্যাংকের সরাসরি নিশ্চয়তা সংগ্রহ করতে পারেননি তাঁরা।

    অন্যদিকে, রূপালী ব্যাংকের ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ঋণ ও অন্যান্য খাতে প্রয়োজনীয় সংস্থান বা প্রভিশন রাখার ক্ষেত্রে ১৪ হাজার ১৪ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে ঘাটতি রয়েছে ১১ হাজার ২১৬ কোটি টাকার বেশি। নিরীক্ষকদের মতে, এই ঘাটতি যথাযথভাবে হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করায় ব্যাংকটির প্রকাশিত মুনাফা, দায় এবং শেয়ারধারীদের মূলধনের হিসাব প্রভাবিত হয়েছে।

    ৫৪ কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনই জমা দেয়নি

    নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আপত্তির পাশাপাশি সময়মতো আর্থিক হিসাব প্রকাশ না করাও পুঁজিবাজারের বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে।

    ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়নি ৫৪টি কোম্পানি। সংশ্লিষ্ট ২৬১টি কোম্পানির হিসাবে প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার হার প্রায় ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।

    আগের বছরগুলোতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জুনে সমাপ্ত হিসাবের আওতায় থাকা ১৯৪টি কোম্পানির মধ্যে ২৮টি আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়নি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৭১টি কোম্পানির মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

    ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টরস ইউনাইটেড ন্যাশনাল ইউনিটির সভাপতি আতাউল্লাহ নাঈম বলেন, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আয়, মুনাফা, ঋণ ও আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

    তাঁর মতে, কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেই সেটিকে আর্থিকভাবে সুস্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। উৎপাদন কার্যক্রম চালু থাকলেও আর্থিক প্রতিবেদন না থাকলে বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানের আয়, নগদ অর্থের প্রবাহ এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে পারেন না।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলামও আর্থিক প্রতিবেদনকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন প্রতিবেদন প্রকাশ না করলে বিনিয়োগকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে বঞ্চিত হন। শুধু জরিমানা করলেই এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে না; বরং নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    নিয়ম ভাঙলে জরিমানা ও শাস্তির বিধান

    বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি, নিরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দিতে হয়।

    ডিএসইর তালিকাভুক্তি বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী, হিসাব বছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। এরপর পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত প্রতিবেদন কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনের জন্যও আলাদা সময়সীমা নির্ধারিত আছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা না দিলে কোম্পানির বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই কমিশনের জারি করা একটি নির্দেশনায় বার্ষিক নিরীক্ষিত হিসাব জমা দিতে বিলম্ব হলে প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান চালু করা হয়।

    এ ছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ১১ ধারায় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন ও নির্ধারিত হিসাব জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই অধ্যাদেশের ৯ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তালিকাভুক্তি বাতিল এবং জনস্বার্থে শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার বিধান রয়েছে।

    নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা

    আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়ম শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ না করার অভিযোগে নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

    ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে রিং শাইন টেক্সটাইলস এবং ফার ইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিরীক্ষায় গুরুতর ঘাটতির অভিযোগে তিনটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকদের বিরুদ্ধে পৃথক আদেশ জারি করে কমিশন।

    রিং শাইন টেক্সটাইলসের ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালের সম্পদ, মুনাফা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবের অসংগতি যথাযথভাবে শনাক্ত বা প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আতা খান অ্যান্ড কোম্পানি এবং শিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানিকে তিন বছরের জন্য কমিশনের তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষা কার্যক্রম থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

    এ ছাড়া মাহফেল হক অ্যান্ড কোম্পানিকে রিং শাইন টেক্সটাইলসের নিরীক্ষার কারণে তিন বছর এবং ফার ইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিরীক্ষার কারণে পৃথকভাবে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

    কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও যথাযথ নিরীক্ষা-প্রমাণ সংগ্রহ না করেই আর্থিক প্রতিবেদনে আপত্তিহীন মতামত দেওয়া হয়েছিল।

    এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চারটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম প্রকাশ না করার অভিযোগে ছয়টি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শুনানিতে ডেকেছিল কমিশন। পরবর্তী সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত নিরীক্ষা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

    কমিশনের মুখপাত্র আবুল কালাম জানান, আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে একাধিক প্রতারণা ও অনিয়মের ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে নির্ধারিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করা হচ্ছে। অসংগতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    আর্থিক দুর্বলতা সত্ত্বেও বাড়ছে শেয়ারের দাম

    পুঁজিবাজারে আরও একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করা কিংবা উৎপাদন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    টাং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইংয়ের কারখানা বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালের পর নতুন কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। তারপরও ২০২৬ সালের আগস্টে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়। অর্থাৎ দাম বেড়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল ৬ টাকা ৩৫ পয়সা।

    নিউ লাইন ক্লথিংসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৭ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছায়। অথচ ১২ আগস্ট ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল কোম্পানিটির কারখানা ও প্রধান কার্যালয় বন্ধ দেখতে পায়। শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

    এর আগেও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ২৯ শতাংশ বেড়েছিল। অথচ প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালের এপ্রিলের পর নতুন কোনো আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করেনি।

    এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র রয়েছে। কোম্পানিটি ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

    উৎপাদন পুনরায় শুরুর প্রস্তুতির ঘোষণা দেওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম এক দিনে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে যায়। তবে পরবর্তী সময়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে না।

    এ ছাড়া ডিএসইর তথ্যভিত্তিক আরেকটি প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে এমন ৩৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কথা উঠে এসেছে, যাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নিরীক্ষকেরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। এসব উদ্বেগের পরও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

    বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ

    পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অন্যতম ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য তথ্য। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    তাই শুধু আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ কিংবা জরিমানা আরোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কোম্পানির হিসাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নিরীক্ষকদের জবাবদিহি বাড়ানো এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    একই সঙ্গে যেসব কোম্পানি দীর্ঘদিন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না, সেগুলোর বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় আর্থিক তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া সংকট পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও দুর্বল করতে পারে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    পুঁজিবাজার

    ২০২৭ সালে শেয়ারবাজারে পা রাখতে পারে ওপেন এআই

    নভেম্বর 5, 2026
    পুঁজিবাজার

    দিনশেষে দুই পুঁজিবাজারেই সূচক ও লেনদেন বাড়ল, ডিএসইতে ৭১ পয়েন্ট উত্থান

    নভেম্বর 5, 2026
    বিশ্ব অর্থনীতি

    ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধাক্কায় ওয়াল স্ট্রিটে উল্লাস, মার্কিন শেয়ারবাজারে সূচকের বড় উত্থান

    নভেম্বর 5, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা, কতটা চাপে ট্রাম্প?

    আন্তর্জাতিক নভেম্বর 6, 2026
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.