দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বিও হিসাবের মাধ্যমে আবারও শেয়ার লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। এ জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিবিএ জানায়, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুরোধ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে ৬১৭টি বিও হিসাবের লেনদেন বন্ধ ছিল। এসব হিসাব পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে গত ২০ জুলাই বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছিল সংগঠনটি। আবেদনে আইনগত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে হিসাবগুলো সচলের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, সংগঠনের আবেদন বিবেচনায় নিয়ে স্থগিত হিসাবগুলোর মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ দেওয়ায় বিএসইসির চেয়ারম্যান, কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞ। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন আটকে থাকা এসব হিসাবে শেয়ার লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলে পুঁজিবাজারে তারল্য ও লেনদেন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ এবং বাজারের প্রতি আস্থা ফিরতেও সহায়ক হবে।
ডিবিএ আরও মনে করে, এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্জিন ঋণদাতা স্টক ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোও দীর্ঘদিনের আর্থিক ও ব্যবসায়িক চাপ কিছুটা কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার সুযোগ পাবে। কারণ, হিসাবগুলো স্থগিত থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণ ও পাওনা সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
তবে বিএসইসির সিদ্ধান্তের পরিধি নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। কমিশনের মুখপাত্র আবুল কালাম জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ব্যক্তি পর্যায়ের কিছু বিও হিসাবের ওপর থেকে শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঠিক কতটি হিসাব এই সুবিধা পাবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এসব হিসাবে শেয়ার কেনাবেচা করা গেলেও অর্থ উত্তোলন বা অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না। এমনকি সংযুক্ত অন্য হিসাবের মাধ্যমে শেয়ার স্থানান্তরের সুযোগও থাকবে না। তবে মার্জিন ঋণ থাকলে তা সমন্বয় করা যাবে।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে অনিয়ম, শেয়ার কারসাজি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই বছরে ছয় শতাধিক বিও হিসাব স্থগিত করা হয়েছিল। এসব হিসাবের সবগুলোর ক্ষেত্রে একই কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ফলে বিএসইসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সব ৬১৭টি হিসাব একসঙ্গে সচল হচ্ছে, এমনটি এখনই বলা যাচ্ছে না।
দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিএসইসিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে ডিবিএ।

