বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনশেষে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছে ৭১ পয়েন্টের বেশি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক বেড়েছে প্রায় ৯১ পয়েন্ট। শুধু সূচক নয়, দুই বাজারেই দরবৃদ্ধি পাওয়া সিকিউরিটিজের সংখ্যা দরপতনের তুলনায় বেশি ছিল। একই সঙ্গে উভয় এক্সচেঞ্জে টাকার অঙ্কে লেনদেনও আগের দিনের চেয়ে বেড়েছে। ফলে দিনের বাজারচিত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেনার আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৩ দশমিক ০৪ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি বেড়েছে ৭১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বড় কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ৩১ দশমিক ০১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ১০ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট। অর্থাৎ প্রধান সূচকের পাশাপাশি বড় কোম্পানি ও শরিয়াহভিত্তিক শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল।
ডিএসইতে দিনজুড়ে প্রায় ৬৩৭ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৫২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। এদিন প্রায় ১৯ কোটি ৮৬ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। বাজারে দরবৃদ্ধির বিস্তারও ছিল উল্লেখযোগ্য। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২৫০টি সিকিউরিটিজের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৮৪টির। অর্থাৎ দরপতনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ সিকিউরিটিজে দরবৃদ্ধি হয়েছে। সূচকের উত্থানের পাশাপাশি এই বিস্তৃত অংশগ্রহণ বাজারের ইতিবাচক প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
খাতভিত্তিক চিত্রেও বেশ কয়েকটি খাতে ভালো প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইতে ব্যাংক খাতের সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। বীমা খাতের উত্থান ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত বেড়েছে ২ শতাংশ। ওষুধ ও রসায়ন এবং প্রকৌশল খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। তবে সব খাত একই দিকে যায়নি। বস্ত্র ও টেলিযোগাযোগ খাতে সামান্য পতন হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ড এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতেও কিছুটা দুর্বলতা ছিল। ফলে বাজারের সামগ্রিক উত্থানে ব্যাংক, বীমা ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
অন্যদিকে সিএসইতে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স দিনশেষে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৮১ দশমিক ৫২২৬ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি বেড়েছে ৯০ দশমিক ৬৫৫৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এদিন সিএসইতে মোট ১৯২টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৬টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৫৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দাম। অর্থাৎ সিএসইতেও দরবৃদ্ধির সংখ্যা দরপতনের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি ছিল।
সিএসইতে দিনশেষে টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিন প্রায় ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯৭টিতে। অর্থাৎ সিএসইতে সূচকের উত্থানের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ ও বাজারে অংশগ্রহণও বেড়েছে।
দিনশেষের সামগ্রিক চিত্রে দুই পুঁজিবাজারেই ক্রেতাদের সক্রিয়তা বেড়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধির সঙ্গে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং লেনদেনও আগের দিনের তুলনায় বেশি হয়েছে। সিএসইতেও সূচক, দরবৃদ্ধির সংখ্যা ও টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে। তবে এক দিনের উত্থানকে দীর্ঘমেয়াদি বাজার পরিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতে এই লেনদেনের গতি এবং সূচকের অবস্থান ধরে রাখা যায় কি না, সেটিই দেখাবে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কতটা স্থায়ী হচ্ছে।

