টানা পতনের ধাক্কা কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজারে ফিরেছে ইতিবাচক ধারা। গত দুই কার্যদিবসে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে সূচক ও লেনদেনও। প্রায় এক মাস পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দৈনিক লেনদেন ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এবং জ্বালানি তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৯ শতাংশের শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৯ শতাংশের। এর আগের দিন বুধবারও চিত্র ছিল একই রকম। ওই দিন ৭৫ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছিল, আর কমেছিল ১২ শতাংশের। অর্থাৎ টানা দুই দিন বাজারে ক্রেতার চাপই ছিল বেশি।
গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৪৯টি কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৪টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৮টির। দিনভর কেনাবেচা হয়েছে ৬৪৫ কোটি টাকার শেয়ার। এর আগে সর্বশেষ প্রায় এক মাস আগে লেনদেন ৬০০ কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করেছিল।
দরবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সূচকেও। গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪১৩ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। বুধবার সূচকটি বেড়েছিল ৫৭ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে দুই দিনে সূচক বেড়েছে প্রায় ১২৯ পয়েন্ট।
তবে এই উত্থানকে এখনই বড় স্বস্তির লক্ষণ বলা যাচ্ছে না। কারণ, এর আগে টানা ৩০ কার্যদিবস দর পতনের ধারায় ছিল বাজার। ওই সময়ে ডিএসইএক্স হারিয়েছিল প্রায় ৩০৮ পয়েন্ট। সে হিসাবে দুই দিনের উত্থানে হারানো পয়েন্টের অর্ধেকেরও কম ফেরত এসেছে।
হঠাৎ পতনের ধারা থেকে বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে অন্যতম কারণ মনে করছেন। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দল রিপাবলিকানরা বড় ধরনের হারের মুখে পড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশটির শাসন ব্যবস্থায় এতে এক ধরনের ভারসাম্য ফিরেছে। ফলে ট্রাম্প আগের মতো অবাধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না বলে ধারণা তৈরি হয়েছে।
বাজার-সংশ্লিষ্টদের আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো, এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটও কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। এমন প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েক দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বের প্রায় সব শেয়ারবাজারে।
একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা মনে করেন, ট্রাম্পের নিজ দেশের করনীতি এবং বৈশ্বিক কূটনীতির ধরন বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করেছিল। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচও বেড়েছে। এখন তাঁর ক্ষমতায় কিছুটা লাগাম পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী স্বস্তি পাচ্ছেন বলে তাঁদের ধারণা। এ পরিস্থিতিতে আশাবাদী ও কৌশলী বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন, যার ফলে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভর করে আসা এই উত্থান কতটা টেকসই হবে, তা এখনই বলা কঠিন। স্থানীয় বাজারের মৌলিক সমস্যা না কাটলে এই গতি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আগামী কয়েক কার্যদিবসের লেনদেন ও সূচকের গতিই স্পষ্ট করবে, এটি স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের সূচনা নাকি সাময়িক সংশোধন।

