সেপ্টেম্বরে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছেন। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর শেষে তাদের শেয়ার ধারণ প্রায় পৌনে ২ শতাংশ কমেছে। বাজার মূলধনের দিক থেকে তাদের অংশও সাড়ে ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও বিক্রির মাত্রা কম থাকলেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে ৩৪১ কোম্পানির আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শেয়ার ধারণের হার তুলনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। ১৯ কোম্পানি এখনো তাদের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কমার অর্থ হলো তারা বিক্রি করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর প্রভাবেই বাজারে দর পতন হচ্ছে। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ক্রমাগত দর বাড়ার সময় এই বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণের হার বেড়েছিল। ওই সময়ে সূচক ৮৩২ পয়েন্ট বেড়েছিল। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাজারে ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ার দর হারিয়েছে, ফলে সূচক ৩২৮ পয়েন্ট কমেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে ৯৪ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার বেড়েছে। এর মধ্যে ২৩ কোম্পানিতে অন্তত ১ শতাংশীয় পয়েন্ট শেয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব শেয়ারের মোট টাকার মূল্য ছিল প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২৫১ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কমেছে। এর মধ্যে ১০৪ কোম্পানিতে অন্তত ১ শতাংশীয় পয়েন্ট শেয়ার হ্রাস পেয়েছে। কমে যাওয়া শেয়ারের মূল্য প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
ডিএসই ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বন্ধ বা একীভূত হতে চলা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার বিক্রি করছে বলে শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতাও কিছু বিনিয়োগকারীর উদ্বেগ বাড়াতে পারে। আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিক্রির কারণে বাজারে দর পতন হচ্ছে। অন্যথায় এই সময়ে দর পতনের যৌক্তিক কারণ নেই।
আগস্ট শেষে ৩৬০ কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ১৭০ কোটি। এর মধ্যে ৩৫৮ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার দুই হাজার ১০ কোটি ৮ লাখ। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারের অংশ ছিল ২১.৯২ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে তাদের শেয়ার ৩৫ কোটি ৩০ লাখ কমে এক হাজার ৯৭৪ কোটি ৭৮ লাখে নেমেছে। এক সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মোট শেয়ার সামান্য বেড়েছে।
বাজার মূলধনেও প্রাতিষ্ঠানিক অংশ কমেছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির শেয়ার মূল্য ১১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা কমে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৭১ কোটি টাকায় নেমেছে। প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার হ্রাস আরও বেশি। আগস্ট শেষে তাদের শেয়ার মূল্য ৬০ হাজার ৫৯৭ কোটি ছিল, যা সেপ্টেম্বর শেষে ৫৭ হাজার ২৪৭ কোটি টাকায় নেমেছে। বাজার মূলধনের অংশ কমে ১৭.৩৫ শতাংশ থেকে ১৬.৩৯ শতাংশে নেমেছে।
তালিকাভুক্ত ১০৪ কোম্পানিতে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার মোটের ১ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সর্বাধিক ২২ শতাংশ কমেছে সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজে। প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে ইনফরমেশন সার্ভিসেস, ই-জেনারেশন ও ওইম্যাক্সে। এছাড়া ৫ থেকে ৭ শতাংশ শেয়ার কমেছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল, হাক্কানি পাল্প, ফাইন ফুডস, ইভিন্স টেক্সটাইল, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, মনোস্পুল পেপার, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, কাট্টলী টেক্সটাইল এবং সাফকো স্পিনিংয়ে।

