শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ চলতি হিসাব বছরের জন্য ২৫৮ কোটি টাকার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সোমবার অনুষ্ঠিত সভায় এপ্রিল–মার্চ হিসাব বছরের আর্থিক ফলাফল অনুমোদনের পাশাপাশি এই লভ্যাংশের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচিত বছরে কোম্পানিটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি হিসাব বছরে বার্জারের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ কোটি টাকায়, যেখানে আগের বছর এই অঙ্ক ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা।
মুনাফা বাড়লেও শেয়ারধারীদের জন্য লভ্যাংশের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কোম্পানিটি ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার অর্থ প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারধারীরা প্রায় ৫২ টাকা ৫০ পয়সা করে নগদ অর্থ পাবেন।
ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী মোট ২৫৮ কোটি টাকা শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। কোম্পানির মুনাফার প্রায় দুই–তৃতীয়াংশের কাছাকাছি অংশ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেয়ার কাঠামো অনুযায়ী, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের বড় অংশের মালিকানা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ার বিদেশি মালিকানাধীন হওয়ায় লভ্যাংশের সবচেয়ে বড় অংশ তারাই পাবেন। হিসাব অনুযায়ী, বিদেশি শেয়ারধারীরা পাবেন প্রায় ২৩১ কোটি টাকা।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা প্রায় ৮ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে তারা পাবেন প্রায় ২১ কোটি টাকা লভ্যাংশ। অন্যদিকে সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা, যাদের হাতে রয়েছে প্রায় ২ শতাংশ শেয়ার, তারা পাবেন আনুমানিক সোয়া ৫ কোটি টাকা।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, লভ্যাংশের জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ জুলাই। ওই তারিখে যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার থাকবে, তারাই লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ২৪ আগস্ট বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শেয়ারধারীদের অনুমোদনের পর লভ্যাংশ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে আর্থিক ফলাফল ও লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় অঙ্কের লভ্যাংশ ঘোষণা সত্ত্বেও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা গ্রহণের কারণে এ ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

