টানা কয়েক কার্যদিবস বিক্রেতা সংকটে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকা ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে অবশেষে বিক্রির চাপ ফিরে এসেছে। এতে শেয়ারটির দাম কমে গিয়ে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর শুরুতে ক্রেতা সংকটে লেনদেন স্থবির থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিক্রেতা না থাকায় শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায়।
তবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) পরিস্থিতি বদলে যায়। দিনের শুরুতে তুলনামূলক উচ্চ দরে লেনদেন শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। ফলে আগের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেমে গিয়ে শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে।
লেনদেন তথ্য অনুযায়ী, দিনজুড়ে শেয়ারটির দাম ওঠানামার মধ্য দিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আগের দিনের তুলনায় নিম্নমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ হয়। দিনের মধ্যে এক পর্যায়ে এটি সর্বনিম্ন দরে নেমে গেলেও আবার সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পর্যন্ত ওঠে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। কখনো বিক্রেতা অনুপস্থিত থাকায় দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, আবার বিক্রির চাপ তৈরি হলেই হঠাৎ পতন ঘটছে।
লেনদেন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, কয়েক হাজার দফা হাতবদল হলেও বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাজারে দামের ওঠানামাকে আরও তীব্র করছে।
একই দিনে বাজারে তালিকাভুক্ত আরেক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড টানা পতনের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর কোম্পানিটির শেয়ারে ধারাবাহিকভাবে বিক্রির চাপ থাকায় দর কমছে এবং ক্রেতা সংকটে লেনদেন সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে দ্রুত ভারসাম্য পরিবর্তন হচ্ছে। কিছু শেয়ারে অতিরিক্ত চাহিদা, আবার কিছু শেয়ারে তীব্র বিক্রয়চাপ—এই দুই বিপরীত প্রবণতাই সামগ্রিকভাবে বাজারে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

