শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে থাকলেও, সরকারি মালিকানাধীন সাতটি কোম্পানি চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) মুনাফায় ফিরে এসেছে। এই সাত প্রতিষ্ঠান মিলিতভাবে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৪৭.৫৭ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
পাওয়ার গ্রিডের চমক:
সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির মুনাফা ২৩৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় কমানোয় তিন বছরের দীর্ঘ সময়ের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখেছে বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী প্রতিষ্ঠানটি। তবে বৈদেশিক ঋণের ওপর মুদ্রার বিনিময় হার এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জ্বালানি খাতের পার্থক্য:
জ্বালানি খাতের তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম মুনাফায় প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও যমুনা অয়েল পিছিয়ে গেছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূত হওয়া চারটি ব্যাংকের আমানতের ওপর সুদ যুক্ত না হওয়ায় যমুনা অয়েলের মুনাফা ১৮ শতাংশ কমেছে।
সাবমেরিন কেবল ও ডেসকোর বৃদ্ধি:
বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির মুনাফা ৫৯ শতাংশ বেড়ে ১৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত আইপিএলসি ব্যান্ডউইথ ও আইপি ট্রানজিট সেবার চাহিদা বৃদ্ধিই আয় বাড়ানোর প্রধান কারণ।
বিদ্যুৎ বিতরণকারী ডেসকো গত বছরের লোকসান কাটিয়ে ৯০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার মুনাফা করেছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির বৃদ্ধিই আয়ের ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তিতাস গ্যাসের লোকসান কমেছে:
তিতাস গ্যাস এখনও লোকসানে থাকলেও আগের বছরের তুলনায় তা কমে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৭১১ কোটি টাকা লোকসান করেছিল, তবে চলতি বছরের লোকসান কমে ৩৯০ কোটি ৩২ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও সংকটে:
সরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান আইসিবি এখনো সংকটে রয়েছে। শেয়ারবাজারের অস্থিতিশীলতা এবং সুদের উচ্চহারের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ৩১১ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত দুই চিনি কল–জিল বাংলা ও শ্যামপুর সুগার মিলসের লোকসান আরও বেড়েছে। একসময়ের লাভজনক প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন কেবলস ও ন্যাশনাল টিউবসও চলতি অর্থবছরে লোকসানের খাতায় নাম লিখিয়েছে।

