প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। বাজেট-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই সূচক ও লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রবিবারের লেনদেনে ডিএসইর প্রধান সূচক ১০০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বাজারে মোট লেনদেন ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি হয়, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারকে সহায়তামূলক কিছু নীতি ও কর কাঠামো সংশোধন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। এর ফলে নতুন করে ক্রয়চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়।
দিনের শুরু থেকেই ডিএসইতে অধিকাংশ শেয়ার দর বৃদ্ধির মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই উত্থান আরও শক্তিশালী হয়। লেনদেন শেষে দেখা যায়, অনেক বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, যা বাজারে সামগ্রিক ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সঙ্গে ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের চাহিদাও বেড়েছে।
ডিএসইতে তালিকাভুক্ত বড় সংখ্যক কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়লেও কিছু কোম্পানির দর কমেছে। তবে সার্বিকভাবে বাজারে দাম বৃদ্ধির তালিকাই বেশি ছিল, যা সূচককে ঊর্ধ্বমুখী রাখে। লেনদেনের পরিমাণও বেড়ে বাজারে নতুন গতি এসেছে। বিভিন্ন বড় কোম্পানি লেনদেনের শীর্ষে ছিল, যার মধ্যে ব্যাংক ও শিল্পখাতের শেয়ার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সূচক প্রায় দেড় শত পয়েন্টের মতো বেড়ে যায় এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরও বৃদ্ধি পায়। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, বাজেট-পরবর্তী এই উত্থান কতটা স্থায়ী হবে তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নযোগ্য নীতি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর।

