মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ এ তথ্য জানান।
মার্কিন স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, কক্ষপথে মোতায়েন করা এসব অস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
ট্রয় মেইঙ্ক বলেন, শত্রুপক্ষের হুমকি মোকাবিলা এবং মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অন-অরবিট’ অস্ত্র সক্ষমতা প্রয়োজন।
তবে মহাকাশে কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। মেইঙ্ক জানান, এসব প্রযুক্তি ‘স্পেস কন্ট্রোল’ কার্যক্রম এবং ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।
পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন স্পেস ফোর্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন ‘স্পেস কন্ট্রোল’ সক্ষমতা রয়েছে, যা শত্রুর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মার্কিন যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে পারে। এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের ব্যবহারের জন্যই তৈরি করা হয়েছে।
‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনা ও নতুন প্রতিযোগিতা
মহাকাশে অস্ত্র থাকার এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।
তবে মহাকাশের সামরিক ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক’ উৎক্ষেপণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও মস্কো মহাকাশে সামরিক আধিপত্য এবং প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইট অকার্যকর করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করে।
১৯৬৭ সালে স্বাক্ষরিত ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করে। তবে স্যাটেলাইট ধ্বংস বা অকার্যকর করার মতো অনেক সামরিক সক্ষমতা এই চুক্তির সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।
চীন-রাশিয়ার সঙ্গে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন ও রাশিয়া উভয় দেশই মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীন মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন স্পেস ফোর্স।
বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য মহাকাশ প্রতিযোগিতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ভবিষ্যতের সামরিক কৌশলে মহাকাশ যে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে, এই ঘোষণা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

