মানুষের কৌতূহল আর অনুসন্ধিৎসা বহু দূরগামী। তারই প্রমাণ হিসেবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবার বৃহস্পতি গ্রহের চাঁদ ইউরোপায় প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযানে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে অত্যাধুনিক ক্ষুদ্রাকৃতির রোবট, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুইম‘।
নাসা বর্তমানে পানির নিচে এই রোবটগুলোর পরীক্ষা চালাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই-বহির্জাগতিক পরিবেশে জীবন খোঁজার উপযোগী প্রযুক্তি নিশ্চিত করা। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, বৃহস্পতির ইউরোপা চাঁদের পৃষ্ঠে ঘন বরফের নিচে যে মহাসাগর রয়েছে, সেখানে প্রাণের উপস্থিতি থাকতে পারে। এই বিশাল জলরাশির গভীর রহস্য উন্মোচনে সুইম রোবটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোবটের নির্মাণ ও প্রযুক্তি-
সুইম রোবট নাসার ‘সেন্সিং উইথ ইনডিপেনডেন্ট মাইক্রো-সুইমার্স (SWIM)’ প্রকল্পের অংশ। এটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং পরিবেশ বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। রোবটটি বর্তমানে ১৬.৫ ইঞ্চি লম্বা হলেও ভবিষ্যতে তা মুঠোফোন আকারে অর্থাৎ প্রায় ৫ ইঞ্চিতে সংকুচিত করা হবে।
এই রোবটগুলোতে রয়েছে উন্নত সেন্সর, যা তাপমাত্রা, চাপ এবং রাসায়নিক গঠনের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করতে পারে। এর চিপ এবং অপারেশনাল অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি, যা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজের ধরন বদলাতে পারে। বিশেষ করে ঘন বরফের নিচে দীর্ঘসময় কাজ করার মতো উপযোগী প্রযুক্তি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউরোপায় অভিযানের পরিকল্পনা-
নাসা ইতোমধ্যে ‘ইউরোপা ক্লিপার নভোযান’ বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার উদ্দেশে পাঠিয়েছে, যা ২০৩০ সালে সেখানে পৌঁছাবে। এই নভোযানের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠ ও মহাসাগরের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযানে আরও উন্নত ও কার্যকর রোবট ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নাসার ‘জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির’ বিজ্ঞানী ইথান শ্যালার জানিয়েছেন, সৌরজগতের এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেখানে প্রাণের খোঁজ অত্যন্ত জরুরি। “আমরা মনে করি, জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য। এই ধারণা থেকেই ইউরোপার মতো স্থানে অনুসন্ধান চালানোর জন্য সুইম রোবট তৈরি করা হয়েছে। এটি আমাদের থেকে কয়েক মিলিয়ন মাইল দূরে গিয়ে কাজ করতে সক্ষম,” বলেন শ্যালার।
পৃথিবীতে ব্যবহারের সম্ভাবনা-
নাসার প্রকৌশলীরা মনে করেন, সুইম রোবট পৃথিবীতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ করে মেরু অঞ্চলে ঘন বরফের নিচে অনুসন্ধান চালাতে এই রোবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর উন্নত সেন্সর এবং অভিযোজিত প্রযুক্তি একে পরিবেশগত গবেষণার জন্য আদর্শ যন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।

