চীনের ডুনডুয়াং শহরে সকালেই পৌঁছে যাই স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিভোর কারখানায়। বিশাল আয়তনের তিনটি ভবন নিয়ে গড়ে উঠেছে এই কারখানা কমপ্লেক্স, সঙ্গে রয়েছে কর্মীদের জন্য একাধিক বহুতল আবাসিক ভবন। গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত ভবনটির আয়তন দশ লাখ বর্গমিটারেরও বেশি, যা এক সময় ছিল ভিভোর মূল সদর দপ্তর। মূল উৎপাদন কার্যক্রম চলে দুটি আলাদা ভবনে, আর সেখান থেকেই মাস প্রতি প্রায় ষাট লাখ স্মার্টফোন তৈরি হয়—দৈনিক হিসাবে যা প্রায় দুই লাখের কাছাকাছি।
বাংলাদেশ, মিসর ও পাকিস্তানের একদল সাংবাদিক ও প্রযুক্তিবিষয়ক ইউটিউবারকে কারখানাটি ঘুরিয়ে দেখান ভিভোর একজন কর্মী। তিনি জানান, সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি নামের একটি পদ্ধতির ভিত্তিতে পুরো কারখানা পরিচালিত হয়। কারখানায় রয়েছে ত্রিশটি স্বতন্ত্র উৎপাদন সারি, যেখানে একের পর এক ধাপে তৈরি হয় স্মার্টফোন। কারখানার পরিবেশও যেমন সবুজ, তেমনি উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেও পরিবেশগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় বলে জানান তিনি।
উৎপাদন প্রক্রিয়ার শুরুতে তৈরি করা হয় স্মার্টফোনের মূল অংশ মাদারবোর্ড, যার একটি সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে মাত্র নয় সেকেন্ড। এরপর আসে যন্ত্রাংশ জোড়া লাগানোর পর্যায়, যার জন্য নির্ধারিত সংযোজন সারির সংখ্যা দশটি। এই পর্যায়ে ধাপে ধাপে যুক্ত হয় প্রসেসর, ক্যামেরা, স্পিকার এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার, আর তারপর ফোন এগিয়ে যায় চূড়ান্ত পরীক্ষার দিকে। একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে চলে সব ধরনের গুণগত মান পরীক্ষা, আর ফোনের পর্দা সংযোজন করে চূড়ান্ত করতে সময় নেয় মাত্র তিন সেকেন্ড।
কারখানার প্রায় সব কাজই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যদিও পাশাপাশি মানুষের তদারকিও রাখা হয় নিরন্তর। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ভিভোর জন্য স্মার্টফোন তৈরির যন্ত্রগুলো তৈরি করেছে তাদেরই আরেকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইকিউও। চীনের ভেতরে আরও একটি কারখানা থাকার পাশাপাশি ব্রাজিল, ভারত, তুরস্ক, মিসর, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানেও ভিভোর উৎপাদন কারখানা রয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক উৎপাদন নেটওয়ার্কের বিস্তৃতির একটি স্পষ্ট প্রমাণ।

