বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর এই ঝুঁকি আরও জটিল করে তুলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার ৯১১টি গুরুতর সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৭১ শতাংশ বেশি। গবেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ধরন ও বিস্তার আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি বিশ্বের বড় দুটি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিংয়ের ঘটনা নতুন করে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাইন্যান্সের ডিজিটাল সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থায় হামলার ঘটনায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির খবর প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সময়ে তৃতীয় পক্ষের একটি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপরও সাইবার হামলার ঘটনা সামনে এসেছে।
তুর্কি টুডের প্রতিবেদনে ইতালির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্লুসিটের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিশ্বে প্রতি মাসে গড়ে ৮১৯টি গুরুতর সাইবার হামলা হয়েছে। আগের ছয় মাসের তুলনায় এই হার ১০৫ শতাংশ বেশি।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সংঘটিত হামলার সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো বছরের মোট হামলার ৯৩ শতাংশের সমান। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসেই গত বছরের প্রায় সমানসংখ্যক গুরুতর সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীরা এখন প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেও কাজে লাগাচ্ছে। এর ফলে হামলার পরিকল্পনা, লক্ষ্য নির্বাচন এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
গবেষকদের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ‘এজেন্টভিত্তিক হ্যাকিং’ নামের একটি নতুন প্রবণতা। এ পদ্ধতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রোগ্রাম মানুষের প্রতিটি নির্দেশনার অপেক্ষা না করেই নিজেরা বিভিন্ন ধাপে হামলার কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম হতে পারে।
এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীরা একসঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে, দুর্বলতা খুঁজে বের করতে এবং সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। ফলে সাইবার হামলা প্রতিরোধে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় হামলার বিস্তার ঘটলে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গ্রাহকের ব্যক্তিগত উপাত্ত এবং আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সাইবার নিরাপত্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অনলাইন ব্যবসা, তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইনভিত্তিক সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সাইবার হামলার দ্রুত বিস্তার এবং অপরাধীদের হাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের সুরক্ষা, নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই এবং দ্রুত হামলা শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।

