চ্যাটজিপিটির সাধারণ কথোপকথন এবং বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার সুবিধাকে এক অভিজ্ঞতায় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। এ পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীরা কোনো বিষয়ে আলোচনা বা পরিকল্পনা করার পর একই জায়গা থেকেই চ্যাটজিপিটিকে দিয়ে সেই কাজ বাস্তবায়ন করাতে পারবেন। এত দিন ডেস্কটপ অ্যাপে চ্যাট ও ওয়ার্ক নামে আলাদা দুটি ট্যাব ব্যবহার করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় এই বিভাজন তুলে দিয়ে একটি সমন্বিত অভিজ্ঞতা চালুর পরীক্ষা করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাটি চালু করা হবে। তাঁদের মতামত নিয়ে পরে পর্যায়ক্রমে অন্যদের জন্যও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা সাধারণ কথোপকথনের মধ্যেই নিজেদের ফাইল যুক্ত করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় প্লাগইন ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজের নির্দেশ দিতে পারবেন। যেমন, কোনো ব্যবসার জন্য ওয়েবসাইট তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনা করার পর একই কথোপকথন থেকেই ওয়েবসাইট তৈরি করতে বলা যাবে। একইভাবে প্রেজেন্টেশন তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা ইন্টারনেটে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া যাবে।
কাজ চলার সময় চ্যাটজিপিটি কী করছে, তা ব্যবহারকারীরা দেখতে পারবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনা পরিবর্তন, সংশোধন কিংবা নতুন তথ্য যুক্ত করার সুযোগও থাকবে। ফলে একটি কাজ শেষ করতে বারবার আলাদা বিভাগে যাওয়া বা নতুন করে নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। ওপেনএআইয়ের লক্ষ্য হলো, শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে ধারণা তৈরি থেকে শুরু করে বাস্তব কাজ শেষ করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় একই জায়গা থেকে সহায়তা দেওয়া।
ডেস্কটপ অ্যাপের নতুন ব্যবস্থায় চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সের মধ্যে পার্থক্যও বজায় রাখা হচ্ছে। কোডেক্স মূলত সফটওয়্যার তৈরি, কোড লেখা, ত্রুটি শনাক্ত এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাট ও ওয়ার্কের অভিজ্ঞতা একীভূত হলেও কোডেক্স আলাদা বিভাগ হিসেবেই থাকবে। এর বিদ্যমান কার্যক্রম ও কাজের ইতিহাসেও পরিবর্তন আসবে না।
ইন্টারফেসের পাশাপাশি চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স ব্যবহারের সীমাতেও পরিবর্তন আনছে ওপেনএআই। আগামী ডিসেম্বর থেকে প্লাস, প্রো ও বিজনেস সাবস্ক্রিপশনের ব্যবহারসীমা দুটি সেবার জন্য একত্র করা হবে। অর্থাৎ চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স ব্যবহারে আলাদা বরাদ্দ না থেকে একটি সম্মিলিত সীমা থাকবে।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহার কতটা হবে, তা নির্ভর করবে ব্যবহৃত মডেল এবং কাজের জটিলতার ওপর। এ ক্ষেত্রে টোকেনের মাধ্যমে ব্যবহার পরিমাপ করা হবে। টোকেন হলো এআই মডেল যে তথ্য গ্রহণ ও তৈরি করে, তার পরিমাপের একক। জটিল কাজ বা উন্নত মডেল ব্যবহার করলে তুলনামূলক বেশি টোকেন খরচ হবে। তবে সাধারণ ইনস্ট্যান্ট চ্যাট এই সম্মিলিত ব্যবহারের সীমার মধ্যে গণনা হবে না।
ওপেনএআইয়ের ধারণা, অধিকাংশ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের কারণে ব্যবহারের সীমা আগের চেয়ে দ্রুত শেষ হবে না। তবে যাঁরা নিয়মিত জটিল কাজের জন্য চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্স ব্যবহার করেন, তাঁদের কারও কারও ব্যবহারের সীমা শেষ হলে পুনরায় চালুর জন্য বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। ব্যবহারকারীরা সেটিংসের ইউসেজ বিভাগ থেকে সম্মিলিত ব্যবহারের অবস্থা ও রিসেটের সময় দেখতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন অভিজ্ঞতা প্রথমে সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর ওপর পরীক্ষা করা হবে। তবে সবার জন্য চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানানো হয়নি। এর আগে সেপ্টেম্বরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের ক্লডের চ্যাট ও কোওয়ার্ক সুবিধা এক জায়গায় যুক্ত করেছে। এবার একই ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ওপেনএআই।

