ঢাকার উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে সাম্প্রতিক সময়ে একদল চীনা নাগরিককে প্রায়ই মোবাইল ফোনে আশপাশের ভিডিও ধারণ করতে দেখা যাচ্ছে। কখনো সরু অলিগলি, কখনো আবাসিক এলাকার ভেতরে ঘুরে তাঁরা দোকানপাট ও পরিবেশের ছবি তুলছেন। নিয়মিত এ কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, কী উদ্দেশ্যে এসব ভিডিও করা হচ্ছে।
স্থানীয় মুদি দোকানিরা বলছেন, চীনা নাগরিকেরা এসে পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ ও চালের মতো পণ্য দেখেন এবং ভিডিও করেন, কিন্তু কিছু কেনেন না। তাঁদের অভিযোগ, বারবার এভাবে ভিডিও করায় তাঁরা বিরক্ত হচ্ছেন।
বিষয়টি জানতে কয়েকজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন প্রতিবেদক। ভাষাগত সমস্যা থাকায় মোবাইল ফোনের অনুবাদ অ্যাপের সাহায্য নেওয়া হয়। একজন চীনা নাগরিক জানান, এসব ভিডিও মূলত চীনা দর্শকদের জন্য তৈরি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি ফোনে লিখে জানান, চীনা পণ্যের প্রচারের উদ্দেশ্যেই তাঁরা এ ধরনের ভিডিও বানান।
কয়েকজন চীনা নাগরিক অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে জানান, ভিডিওগুলো তাঁরা উইচ্যাট ও টিকটকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে আয় করেন। তাঁদের ভাষ্য, ঢাকার নিম্ন আয়ের মানুষ যেসব এলাকায় বসবাস করেন, সেসব এলাকা নিয়ে তাঁদের আগ্রহ বেশি। এ কারণেই তাঁরা উত্তরার কিছু এলাকা বেছে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, উত্তরার টেকপাড়া এলাকায় বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চীনা নাগরিক বসবাস করছেন। আগে এ সংখ্যা কম থাকলেও এখন অনেক বেড়েছে। কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালে একাধিক চীনা নাগরিক একসঙ্গে উপস্থিত হন, এতে তাঁরা অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁরা বলেন, চীনা নাগরিকদের ভাষা তাঁরা বোঝেন না, ফলে কে কী বলছেন তা বোঝা যায় না। কেন তাঁরা এই এলাকায় বেশি আসছেন, সেটিও তাঁদের জানা নেই।
বাসিন্দারা আরও জানান, তিন-চার মাস ধরে এলাকার প্রায় প্রতিটি দোকানে ভিডিও করা হচ্ছে। এতে অনেকেই বিরক্ত। তাঁদের প্রশ্ন, এটি শুধুই চীনা পণ্যের প্রচারের অংশ, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন।
এখন পর্যন্ত চীনা নাগরিকদের বক্তব্য অনুযায়ী ভিডিও ধারণের কারণ বাণিজ্যিক কনটেন্ট তৈরি ও আয়। তবে স্থানীয়দের উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক এবং প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

