তুরস্কে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক রোবটিকস প্রতিযোগিতা, ‘ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড (WRO)’ -এ বাংলাদেশের দুটি দল অর্জন করেছে ব্রোঞ্জ পদক। এই সাফল্য বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের অর্জন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
গত ২৮ নভেম্বর তুরস্কের ইজমির শহরে শুরু হয় ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের ২১তম আসর। এই আসরে বিশ্বের ৮৭টি দেশের মোট ৫৬০টি দল অংশগ্রহণ করেছে। এ আয়োজনে অংশ নেয় ৩১৫০ জন প্রতিনিধি এবং ৫৭টি দেশের ১৯৭ জন বিচারক বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩ দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের দুটি দল ‘সাইবার স্কোয়াড’ ও ‘চেইঞ্জ মেকার্স’ অর্জন করে ব্রোঞ্জ পদক।
‘সাইবার স্কোয়াড’– দলের নেতৃত্ব দেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আফিয়া হুমায়রা।
অন্যদিকে ‘চেইঞ্জ মেকার্স’– দলের নেতৃত্বে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আনজুম পুষ্প। এই দুই দলের সাফল্য বাংলাদেশের প্রযুক্তি শিক্ষার দিকে বড় ধরনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এ বছর প্রতিযোগিতায় -‘ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স’ , ‘ফিউচার ইনোভেটরস’ এবং ‘রোবো স্পোর্টস’ সেগমেন্টে বাংলাদেশের মোট ১২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলো ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের রাকিবুল ইসলাম, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের আনাস বিন আজিম, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এসএম মহিউদ্দিন সামি, ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের ওমেরা ফিদান, এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের নুজহাত জাহান এবং স্যার জন উইলসন স্কুলের ওয়ামিয়া নায়ার শেহরিজাদ, ডিপিএস এসটিএস স্কুলের জুনাইরাহ মাহতালত ও আশালীনা যোহারিন।
বাংলাদেশ দলের সদস্যরা ২ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন এবং তাদের সাফল্য উদযাপন করেন। দলগুলোর সদস্যরা জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রতি আগ্রহ আরো বাড়বে।
বাংলাদেশের ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের শুরু হয় ২০২০ সালে। ওই বছর অলিম্পিয়াড আয়োজন না হলেও, ২০২১ সালে অনলাইনে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়ে দশম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ২০২২ সালে সশরীরে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদকসহ অষ্টম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ এবং ২০২৩ সালে পঞ্চম স্থান লাভ করে।
বাংলাদেশ দলের উপদলনেতা মাহেরুল আজম কোরেশী এই সাফল্যের জন্য তরুণদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, “এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আরো বেশি আগ্রহী করবে।”
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোবটিকস প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত এই অলিম্পিয়াডের বাংলাদেশ পর্বের আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (BOSN)‘।
এটি বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় মুহূর্ত, যা দেশের ভবিষ্যত রোবটিকস ও প্রযুক্তি খাতের উন্নতির দিকেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

