বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শুরুটা কেমন হওয়া উচিত? সেই প্রশ্নের জবাব যেন মাঠেই দিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আকাশী-সাদারা শুধু জয়ই পায়নি, পুরো টুর্নামেন্টের জন্যও একটি শক্ত বার্তা ছুড়ে দিয়েছে। আর সেই বার্তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি।
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে কিছু প্রশ্ন ছিল। দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দল প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি, মেসির বয়স ও ইউরোপের বাইরে খেলার বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছিল। কিন্তু মাঠে নামার পর সেসব প্রশ্নের কোনো গুরুত্বই রাখেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি, যদিও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। কিছুক্ষণ পর আলজেরিয়াও গোলের দেখা পেলেও সেটিও অফসাইডে বাতিল হয়। শুরুতে দুই দলের এমন পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হলেও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।
প্রথম গোলটি আসে মেসির দুর্দান্ত এক শট থেকে। মাঝমাঠে রদ্রিগো দে পলের নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। গোলটি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়।
বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় গোলটিও করেন মেসি। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট প্রতিহত করার পর বলটি তার সামনে চলে আসে, আর কাছ থেকে সহজেই জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।
এরপর শুরু হয় ইতিহাস গড়ার অপেক্ষা। বিশ্বকাপে কখনো হ্যাটট্রিক করতে না পারা মেসি ৭৬ মিনিটে সেই অপূর্ণতাও দূর করেন। নিকোলাস গনসালেসের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করার পর মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো ছিল রাতটির সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্যের মালিক মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনি এখনও সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন।
৩-০ গোলের এই জয় আর্জেন্টিনাকে শুধু তিন পয়েন্টই দেয়নি, বিশ্বকাপের বাকি দলগুলোর কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—শিরোপাধারীরা তাদের মুকুট রক্ষা করতে প্রস্তুত। আর সেই অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন এক অনুপ্রাণিত লিওনেল মেসি।

