Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, আগস্ট 11, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তনের আভাস: লাখো প্রার্থীর ভবিষ্যৎ কোন পথে?
    বাংলাদেশ

    শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তনের আভাস: লাখো প্রার্থীর ভবিষ্যৎ কোন পথে?

    নিউজ ডেস্কUpdated:আগস্ট 11, 2026আগস্ট 11, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা আবার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন—শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে যোগ্যতার সনদ দেবে এনটিআরসিএ, কিন্তু সেই সনদধারীদের মধ্য থেকে কে শিক্ষক হিসেবে চাকরি পাবেন, তা কি আবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি ঠিক করবে?

    ১০ আগস্ট বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রমসংক্রান্ত সভার কার্যবিবরণীতে এনটিআরসিএকে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজে সীমাবদ্ধ রাখা এবং ২০১৫ সাল থেকে চালু থাকা কেন্দ্রীয় নিয়োগ-সুপারিশ ব্যবস্থা বন্ধ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই নথিতে প্রত্যয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সভায় মতৈক্যের কথাও রয়েছে।

    কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ১০ আগস্ট রাতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং পুরো নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা চলছে। ১১ আগস্ট সকালেও বিভিন্ন বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম একই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

    সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিকে সবচেয়ে সঠিকভাবে বলা যায়—ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ ফিরিয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী নীতিগত প্রস্তাব সরকারি আলোচনায় এসেছে এবং ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীতেও তা স্থান পেয়েছে; কিন্তু ১১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সেটি চূড়ান্ত ও কার্যকর সরকারি নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। এনটিআরসিএর বর্তমান সরকারি ওয়েবসাইটেও এখনো প্রতিষ্ঠানটিকে প্রবেশ পর্যায়ের শূন্যপদে নিবন্ধিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।

    বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ছোট কোনো খাত নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এনটিআরসিএর তথ্য উদ্ধৃত করে ঢাকা পোস্ট জানিয়েছিল, দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩৪ হাজার ১২৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত। অর্থাৎ শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন হলে তার প্রভাব কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় অংশ এর আওতায় পড়বে।

    আর চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও বিপুল। শুধু ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষাতেই আবেদন করেছিলেন ১৮ লাখ ৬৫ হাজার ৭১৯ জন। তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৩৩ জন, উত্তীর্ণ হন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮১ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৮৩ হাজার ৮৬৫ জন এবং শেষ পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬০ হাজার ৬৩৪ জন। অর্থাৎ মোট আবেদনকারীর তুলনায় চূড়ান্তভাবে নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়—এনটিআরসিএর নিয়োগব্যবস্থা শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের সবচেয়ে বড় চাকরির প্রতিযোগিতাগুলোর একটি।

    ২০০৫ থেকে ২০২৬: নিয়োগব্যবস্থা কীভাবে বদলেছে

    এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালের আইনের মাধ্যমে। প্রথমদিকে সংস্থাটির কাজ ছিল মূলত পরীক্ষা নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হওয়ার জন্য যোগ্য প্রার্থীদের নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন করা। সেই সনদ নিয়ে প্রার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি তাঁদের মধ্য থেকে শিক্ষক নিয়োগ করত।

    এই পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসে ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের মাধ্যমে এনটিআরসিএকে প্রবেশ পর্যায়ের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী সুপারিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে শূন্যপদের তথ্য পাঠায়, প্রার্থীরা আবেদন করেন এবং মেধাক্রম, বিষয় ও পছন্দের ভিত্তিতে এনটিআরসিএ প্রার্থী নির্বাচন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ পাঠায়।

    এনটিআরসিএর সরকারি ওয়েবসাইটের ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম থেকে সপ্তম নিয়োগ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্থাটি মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪ জন শিক্ষককে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে ৪১ হাজার ৬২৭ এবং সপ্তম বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ১১ হাজার ৭১৩ জন রয়েছেন।

    এখানে একটি তথ্যগত অসামঞ্জস্যও চোখে পড়ে। ১০ আগস্টের কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে এনটিআরসিএর মোট সুপারিশের সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ বলা হয়েছে, অথচ এনটিআরসিএর নিজের হালনাগাদ সরকারি পাতায় মোট সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে তাই সরকারি হালনাগাদ সংখ্যাটিকেই বেশি নির্ভরযোগ্য ধরে নেওয়া যুক্তিযুক্ত, তবে এই পার্থক্যের সরকারি ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

    সংখ্যায় শিক্ষক নিয়োগের বর্তমান সংকট

    সূচক পরিসংখ্যান কী বোঝায়
    বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি প্রতিষ্ঠান ৩৪,১২৯ পরিবর্তনের আওতা অত্যন্ত বড়
    এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ৫,৯৮,৯৯৪ শিক্ষক ব্যবস্থাপনা জাতীয় শিক্ষা কাঠামোর বড় অংশ
    এনটিআরসিএর সরকারি হিসাবে মোট নিয়োগ সুপারিশ ১,৮৯,২৮৪ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার প্রায় এক দশকের পরিসর
    ১৮তম নিবন্ধনে আবেদন ১৮,৬৫,৭১৯ চাকরিপ্রার্থীদের বিপুল চাপ
    ১৮তম নিবন্ধনে চূড়ান্ত উত্তীর্ণ ৬০,৬৩৪ আবেদনকারীর প্রায় ৩.২৫ শতাংশ
    ষষ্ঠ নিয়োগে শূন্যপদ ১,০০,৮২২ শিক্ষক সংকটের বড় চিত্র
    ষষ্ঠ নিয়োগে সুপারিশ ৪১,৬২৭ মোট পদের প্রায় ৪১.৩ শতাংশ
    সপ্তম বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে শূন্যপদ ৬৭,২০৮ বড় অংশ তখনও খালি ছিল
    সপ্তম বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন ১৮,৩৯৯ পদের তুলনায় প্রার্থী খুব কম
    বৈধ আবেদনকারী ১৭,৩৭২ ১,০২৭ আবেদন বাদ পড়ে
    সপ্তম বিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ ১১,৭১৩ মাত্র প্রায় ১৭.৪ শতাংশ পদ পূরণের সুপারিশ
    সপ্তমের পরও শূন্য ৫৫,৪৯৫ প্রায় ৮২.৬ শতাংশ পদ খালি থেকে যায়
    এপ্রিল ২০২৬-এ প্রকাশিত নতুন শূন্যপদ ৭৭,৭৯৯ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি মিলিয়ে

    এই ছকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা সম্ভবত ৫৫ হাজার ৪৯৫। সপ্তম বিশেষ নিয়োগে ৬৭ হাজার ২০৮টি পদের বিপরীতে মাত্র ১১ হাজার ৭১৩ জনকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়েছিল। এনটিআরসিএ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, অনেক শূন্যপদের বিপরীতে একই বিষয়ে নিবন্ধিত যোগ্য প্রার্থী বা আবেদনকারী পাওয়া যায়নি।

    এখানেই বর্তমান বিতর্কের একটি মৌলিক বিষয় সামনে আসে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাতে থাকবে নাকি ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাবে—এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট বিষয়ে যোগ্য ও নিবন্ধিত প্রার্থীই না থাকে, তাহলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বদলালেই শিক্ষক সংকট সমাধান হবে না।

    কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা: পদ আছে, প্রার্থী মেলে না

    ২০২৫ সালের ষষ্ঠ নিয়োগ কার্যক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১ লাখ ৮২২টি শূন্যপদের চাহিদা এসেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুপারিশ করা হয় ৪১ হাজার ৬২৭ জনকে। অর্থাৎ আনুমানিক ৪১ শতাংশ পদ পূরণের সুপারিশ সম্ভব হয়েছিল এবং প্রায় ৫৯ শতাংশ পদ তখনও পূরণ হয়নি।

    প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছিল, ইবতেদায়ি মৌলভি পদে প্রায় আট হাজার শূন্যপদের বিপরীতে উত্তীর্ণ প্রার্থী ছিলেন মাত্র প্রায় ৯০০ জন। সহকারী শিক্ষক—চারু ও কারুকলা পদে প্রায় নয় হাজার শূন্যপদের বিপরীতে উত্তীর্ণ প্রার্থী ছিলেন প্রায় ৫০০ জন। অর্থাৎ সমস্যাটি অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার চেয়েও গভীর; নির্দিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক সরবরাহ এবং শূন্যপদের চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।

    এ কারণে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ ফিরিয়ে দিলেও যদি শর্ত থাকে যে প্রার্থীকে অবশ্যই এনটিআরসিএর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধিত হতে হবে, তাহলে একই সংকট থেকে যেতে পারে। একজন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমন একজন গণিত শিক্ষক নিয়োগ করতে পারবেন না, যিনি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা নিবন্ধনই অর্জন করেননি।

    তাই প্রকৃত সমস্যাটিকে শুধু “এনটিআরসিএ ব্যর্থ” অথবা “ম্যানেজিং কমিটি ভালো”—এই দুই ভাগে দেখলে সমাধান পাওয়া কঠিন হবে।

    সরকার কেন পরিবর্তনের কথা ভাবছে?

    ৩ আগস্টের সভার নথি ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মূলত তিন ধরনের সমস্যার কথা উঠে এসেছে।

    প্রথমত, আইনগত প্রশ্ন। এনটিআরসিএ আইন, ২০০৫-এ প্রতিষ্ঠানটির মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে যোগ্য শিক্ষকপ্রার্থীদের তালিকা তৈরি, নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কথা রয়েছে। ২০১৫ সালের পরিপত্রের মাধ্যমে পরে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৩ আগস্টের সভায় এই আইনি কাঠামো নিয়েই আলোচনা হয়েছে এবং এনটিআরসিএকে মূল আইনের সীমায় ফেরানোর যুক্তি তোলা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, মামলা, প্রশাসনিক জটিলতা ও নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টি সভায় আলোচিত হয়েছে। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন মামলা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে—এমন মত সভায় দেওয়া হয়।

    তৃতীয়ত, দূরের জেলায় শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার সমস্যা। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরে নিয়োগ পাওয়ায় অনেক শিক্ষক সমস্যায় পড়েন এবং স্থানীয়ভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা হলে নিজ উপজেলা বা জেলার মধ্যে চাকরি পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে—এই যুক্তিও আলোচনায় এসেছে।

    তবে এই যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পাল্টা দিক আছে। এনটিআরসিএর নিজস্ব সরকারি তথ্যে দেখা যায়, ২০১৫ সালের পরিপত্রেই প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে উপজেলার মেধাতালিকা, সেখানে প্রার্থী না পাওয়া গেলে জেলা এবং তারপর বিভাগীয় মেধাতালিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। অর্থাৎ দূরত্ব কমানোর নীতিগত উপাদান কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মধ্যেই একসময় রাখা হয়েছিল।

    তাই যদি “দূরে পদায়ন” বর্তমান পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়, তাহলে আগে পরীক্ষা করা দরকার—বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা, প্রার্থীর পছন্দক্রম, বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদ অথবা পরবর্তী বিধি পরিবর্তনের কোন জায়গায় স্থানীয় অগ্রাধিকারের সেই উদ্দেশ্য দুর্বল হয়ে গেছে। পুরো কেন্দ্রীয় নিয়োগব্যবস্থা বাতিল না করেও এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হতে পারে।

    ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা গেলে সবচেয়ে বড় সুবিধা কী হতে পারে?

    সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুবিধা হলো প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নির্বাচন।

    একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ অনেক সময় জানেন তাদের প্রতিষ্ঠানে কেমন শিক্ষক প্রয়োজন। কেবল পরীক্ষার নম্বর দিয়ে একজন মানুষের শ্রেণিকক্ষ পরিচালনার দক্ষতা, যোগাযোগক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ, বোর্ডে ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা বা বাস্তব পাঠদানের দক্ষতা পুরোপুরি বোঝা যায় না।

    ম্যানেজিং কমিটির কাছে যদি কয়েকজন এনটিআরসিএ-সনদধারী প্রার্থী পাঠানো হয় এবং তাঁদের নমুনা পাঠদান নেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে কাগজে ভালো ফল করা প্রার্থীর পাশাপাশি বাস্তবে ভালো শিক্ষক হওয়ার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা সম্ভব।

    আরেকটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো স্থানীয় প্রার্থী নিয়োগ। একজন শিক্ষক যদি নিজের জেলা বা কাছাকাছি এলাকায় চাকরি পান, তাঁর স্থানান্তর বা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমতে পারে—এটি একটি যুক্তিসঙ্গত সম্ভাবনা। দূরের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকে বর্তমান ব্যবস্থার সমস্যা হিসেবে মন্ত্রণালয়ের সভাতেও আলোচনায় আনা হয়েছিল।

    কিন্তু এখান থেকেই সুবিধা এবং ঝুঁকির সীমারেখা খুব সরু হয়ে যায়। “স্থানীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার” আর “আমাদের লোককে অগ্রাধিকার”—এই দুটির মধ্যে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা না থাকলে পার্থক্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় আশঙ্কা: ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব

    ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতায় সবচেয়ে বেশি যে শব্দগুলো উচ্চারিত হচ্ছে, সেগুলো হলো—ঘুষ, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ।

    ইত্তেফাকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, অতীতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগের সময় যোগ্যতার চেয়ে আর্থিক লেনদেন ও স্থানীয় প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পুরোনো ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠান নিজে বিজ্ঞপ্তি দিত, প্রার্থী সরাসরি সেখানে আবেদন করতেন এবং ম্যানেজিং কমিটির অধীনে গঠিত নিয়োগ বোর্ড লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করত।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থায় অনিয়মের বাস্তব উদাহরণও আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তের তথ্য উদ্ধৃত করে ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিদর্শন করা ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদ, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ এবং আর্থিক অনিয়মের বিভিন্ন ঘটনা পাওয়া যায়। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

    আরেকটি তদন্তে ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর সনদ জাল বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়; এর মধ্যে ১৯৪ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছিল।

    তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। এসব অনিয়মের সব কটি ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ফল—এমন সিদ্ধান্ত ওই পরিসংখ্যান থেকে টানা যাবে না। এগুলো বরং দেখায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, সনদ যাচাই ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিচালনাগত ঝুঁকি রয়েছে। সেই কাঠামোর হাতে আরও বড় নিয়োগক্ষমতা দিলে শক্তিশালী নজরদারি ছাড়া ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    আরেকটি বড় প্রশ্ন: যে কমিটি শিক্ষক নেবে, সেই কমিটি কতটা শক্তিশালী?

    নিয়োগক্ষমতা কার হাতে দেওয়া হবে—এই প্রশ্নের আগে আসলে আরেকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন: ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিগুলো নিজেরাই কতটা স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও জবাবদিহিমূলক?

    ইত্তেফাক ১০ আগস্ট জানিয়েছে, অনেক বেসরকারি মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের বদলে অস্থায়ী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত কমিটি গঠনে বিলম্ব এবং পরিচালনা পর্ষদের জবাবদিহি নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

    এর সঙ্গে আরেকটি নীতিগত বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন মার্চে জানিয়েছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের সরাসরি প্রভাব কমানোর কাঠামোর কথাও বলা হয়।

    অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদের নিজস্ব কাঠামো যখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই যদি তাদের হাতে হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতাও দেওয়া হয়, তাহলে আগে পরিচালনা ও জবাবদিহির কাঠামো পরিষ্কার করা জরুরি।

    চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কী বদলাবে?

    বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় একটি বড় সুবিধা হলো, একজন প্রার্থী একটি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পছন্দ দিতে পারেন। এনটিআরসিএর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে একটি আবেদনে সর্বোচ্চ ৪০টি প্রতিষ্ঠানের পছন্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মেধা এবং পছন্দের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়।

    পুরোপুরি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নিয়োগ ফিরে এলে একজন চাকরিপ্রার্থীকে ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা বা অন্য জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলাদা আলাদা আবেদন করতে হতে পারে। পুরোনো মডেলেও প্রতিষ্ঠান নিজের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করত এবং প্রার্থীকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হতো।

    এর ফলে সম্ভাব্যভাবে আবেদন ফি, কাগজপত্র, ডাক বা যাতায়াত, পৃথক পরীক্ষা এবং সাক্ষাৎকারের সংখ্যা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মেধাক্রমে একজন প্রার্থীর অবস্থান যতটা নির্ধারক, স্থানীয় নিয়োগ বোর্ডের মূল্যায়ন চালু হলে সেটির গুরুত্ব কমে যেতে পারে।

    অন্যদিকে নিজের জেলা বা উপজেলায় চাকরির সুযোগ বাড়লে অনেকের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনকও হতে পারে। কাজেই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য পরিবর্তনটি একমাত্রিক নয়—স্থানীয় সুযোগ বাড়তে পারে, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের সমান প্রতিযোগিতার নিশ্চয়তা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে।

    ১৮তম নিবন্ধনধারীদের জন্য বিশেষ অনিশ্চয়তা

    ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণী উদ্ধৃত করে ঢাকা পোস্ট ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস জানিয়েছে, ১৮তম নিবন্ধনের একটি অংশের ৯ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীকে নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয় নথিতে রাখা হয়েছে।

    এটি বাস্তবায়িত হলে একই নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের একটি অংশ এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ পেয়েছেন, আরেক অংশ নতুন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন। ফলে পরিবর্তনকালীন বিধান পরিষ্কার না হলে সমান সুযোগ, বয়সসীমা, সনদের মেয়াদ এবং পূর্বের মেধাক্রম নিয়ে নতুন আইনি ও প্রশাসনিক বিরোধ তৈরি হতে পারে—এটি নথিতে উল্লেখ করা কাঠামো থেকে যৌক্তিকভাবে অনুমান করা যায়।

    শিক্ষক সংকট কি কমবে?

    এখানেই নতুন নীতির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

    ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে বলা যেতে পারে, প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিজ্ঞপ্তি দিলে দ্রুত শিক্ষক খুঁজে নিতে পারবে। বিশেষ করে স্থানীয় সনদধারী প্রার্থী পাওয়া গেলে অপেক্ষার সময় কমতে পারে।

    কিন্তু সপ্তম বিশেষ নিয়োগের বাস্তবতা বলছে, ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য থাকার প্রধান কারণগুলোর একটি ছিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধিত আবেদনকারী না পাওয়া।

    এখানে নিয়োগকারী বদলালেও প্রার্থীর সরবরাহ বাড়বে না।

    একটি বিদ্যালয়ে চারু ও কারুকলা শিক্ষক নেই, কিন্তু সেই বিষয়ে নিবন্ধিত প্রার্থীই যদি এলাকায় না থাকেন, তাহলে ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করেও শিক্ষক পাওয়া যাবে না। একইভাবে বিশেষায়িত মাদ্রাসা বা কারিগরি বিষয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকলে স্থানীয় নিয়োগব্যবস্থাও সমস্যায় পড়বে।

    তাই শিক্ষক সংকট সমাধানের জন্য নিয়োগ কর্তৃপক্ষ বদলের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক-চাহিদা নিরূপণ, নিয়মিত নিবন্ধন পরীক্ষা, শূন্যপদ অনুযায়ী প্রার্থী তৈরি এবং কম চাহিদাসম্পন্ন এলাকায় শিক্ষক ধরে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পেছনে সপ্তম নিয়োগে বিষয়ভিত্তিক যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার তথ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব কোথায়?

    শিক্ষক নিয়োগের আলোচনা সাধারণত চাকরিপ্রার্থীদের কেন্দ্র করে হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংশ্লিষ্ট পক্ষ হলো শিক্ষার্থী।

    বছরের পর বছর একটি বিষয়ে শিক্ষক না থাকলে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলেই সারা দেশের এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শিক্ষক পদ শূন্য থাকার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। একই সময় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী শুধু এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজ পর্যায়েই ৬০ হাজার ২৯৫টি শিক্ষক পদ শূন্য থাকার কথা জানিয়েছিলেন। দুই সংখ্যার আওতা আলাদা—প্রথমটিতে মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে—তবে উভয় তথ্যই শিক্ষক সংকটের বড় মাত্রা দেখায়।

    অতএব এমন একটি নিয়োগব্যবস্থা দরকার যা শুধু দুর্নীতি কমায় না, দ্রুত শূন্যপদও পূরণ করতে পারে।

    কেন্দ্রীয় পদ্ধতি স্বচ্ছ হলেও যদি বছরে হাজার হাজার পদ খালি থাকে, শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার স্থানীয় ব্যবস্থা দ্রুত নিয়োগ দিলেও যদি রাজনৈতিক আনুগত্য বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দুর্বল শিক্ষক নিয়োগ পান, সেখানেও শিক্ষার্থীই শেষ পর্যন্ত মূল্য দেবে।

    শিক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে তাই আসল প্রশ্ন হলো না—“এনটিআরসিএ নাকি কমিটি?”
    আসল প্রশ্ন হলো—“কোন ব্যবস্থায় দ্রুততম সময়ে সবচেয়ে যোগ্য শিক্ষককে সবচেয়ে স্বচ্ছভাবে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছানো যাবে?”

    নীতির দিক থেকে একটি বড় বৈপরীত্য

    ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সরকার উল্টো পথে এগোচ্ছিল বলেই বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগে দেখা গেছে।

    আগে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ প্রশাসনিক পদে নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির বড় ভূমিকা ছিল। অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের কারণে এসব পদও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে এনটিআরসিএ ১২ হাজার ৯৫১টি প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানের পদে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা আয়োজনের প্রক্রিয়া চালায়; ৫৩ হাজারের বেশি আবেদনও জমা পড়ে। এনটিআরসিএ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তখন এই কেন্দ্রীয় পরীক্ষাভিত্তিক পদ্ধতিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

    কয়েক মাসের মধ্যেই যদি প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ আবার প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তাহলে সরকারের শিক্ষক নিয়োগ নীতির দর্শন কী—সেটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

    একদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিয়োগ কমিটির কাছ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় নেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতার যুক্তিতে; অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা থেকে কমিটির কাছে দেওয়ার আলোচনা হচ্ছে জটিলতা কমানোর যুক্তিতে।

    দুটি সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের কাছে সেই যুক্তির ধারাবাহিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

    নিয়োগের জন্য কোন মডেল সবচেয়ে কার্যকর?

    বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের তুলনামূলক মেধা যাচাই এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যাচাইযোগ্য নথিপথ আছে। সপ্তম বিশেষ নিয়োগেও মেধাক্রম, পছন্দক্রম ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহার করে সুপারিশ করা হয়েছিল।

    সম্পূর্ণ ম্যানেজিং কমিটিনির্ভর ব্যবস্থার শক্তি হলো স্থানীয় প্রয়োজন বুঝে শিক্ষক নির্বাচন এবং প্রয়োজন হলে নমুনা পাঠদান বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে পাঠদানের দক্ষতা যাচাই করা।

    কিন্তু এই দুই ব্যবস্থার দুর্বলতাও পরিষ্কার।

    বিষয় কেন্দ্রীয় এনটিআরসিএ পুরোপুরি ম্যানেজিং কমিটি সম্ভাব্য সমন্বিত ব্যবস্থা
    জাতীয় মেধা তুলনা শক্তিশালী তুলনামূলক দুর্বল শক্তিশালী রাখা সম্ভব
    স্থানীয় প্রয়োজন বোঝা সীমিত শক্তিশালী শক্তিশালী
    তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যাচাইযোগ্য নথি বেশি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল বাধ্যতামূলক করা সম্ভব
    স্থানীয় প্রভাবের ঝুঁকি তুলনামূলক কম তুলনামূলক বেশি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব
    নমুনা পাঠদানের মাধ্যমে যাচাই সীমিত সহজ রাখা সম্ভব
    দূরের পদায়ন হতে পারে কমতে পারে স্থানীয় অগ্রাধিকার নম্বর দিয়ে কমানো সম্ভব
    প্রার্থীর আবেদন প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় বহু প্রতিষ্ঠানে পৃথক হতে পারে কেন্দ্রীয় রাখা সম্ভব
    বিষয়ভিত্তিক প্রার্থী সংকট সমাধান করতে পারে না এটিও পারে না আলাদা জনবল পরিকল্পনা প্রয়োজন

    এই তুলনা থেকে সবচেয়ে যৌক্তিক সমাধান সম্ভবত পুরোপুরি এক পক্ষের হাতে ক্ষমতা দেওয়া নয়, বরং কেন্দ্রীয় মেধা যাচাই ও স্থানীয় মূল্যায়নের সমন্বিত ব্যবস্থা।

    একটি ভালো সমন্বিত নিয়োগব্যবস্থা কেমন হতে পারে?

    সরকার যদি সত্যিই শিক্ষক নিয়োগে পরিবর্তন আনতে চায়, তাহলে নিচের কাঠামোটি বর্তমান দুই ব্যবস্থার ভালো দিকগুলো একসঙ্গে রাখতে পারে।

    ১. এনটিআরসিএ জাতীয় পরীক্ষা ও মেধাক্রম বজায় রাখবে। প্রতিটি শূন্যপদের জন্য মেধার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচজনের সংক্ষিপ্ত তালিকা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো যেতে পারে।

    ২. স্থানীয় নিয়োগ বোর্ড চূড়ান্ত দক্ষতা যাচাই করবে, কিন্তু তার ক্ষমতা সীমাহীন হবে না। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় পরীক্ষার নম্বরকে মোট মূল্যায়নের ৭০–৮০ শতাংশ এবং নমুনা পাঠদান ও কাঠামোবদ্ধ সাক্ষাৎকারকে ২০–৩০ শতাংশ রাখা যেতে পারে।

    ৩. সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন, নম্বর এবং নমুনা পাঠদানের মূল্যায়ন তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় প্রত্যেক প্রার্থীর নম্বর অনলাইনে প্রকাশ করলে “কেন একজন নির্বাচিত হলেন”—সেটি যাচাই করা সম্ভব হবে।

    ৪. নিয়োগ বোর্ডে একজন স্বাধীন বিষয়বিশেষজ্ঞ ও সরকারি প্রতিনিধি বাধ্যতামূলক করা উচিত। শুধু স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের হাতে সিদ্ধান্ত রাখা উচিত নয়।

    ৫. স্থানীয় প্রার্থীকে স্বচ্ছ অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া যেতে পারে। উপজেলা, জেলা এবং বিভাগকে পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার দিলে দূরবর্তী পদায়ন কমবে, অথচ “নিজেদের লোক” নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে না। আগের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায়ও উপজেলা-জেলা-বিভাগ অগ্রাধিকারের ধারণা ছিল।

    ৬. অস্থায়ী বা প্রশ্নবিদ্ধ পরিচালনা পর্ষদের হাতে সরাসরি নিয়োগক্ষমতা না দেওয়া ভালো। আগে কমিটির গঠন, সদস্যদের স্বার্থসংঘাত ঘোষণা এবং জবাবদিহির নিয়ম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক এই সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখায়।

    ৭. বিষয়ভিত্তিক জাতীয় শূন্যপদ তথ্যভান্ডার চালু করা প্রয়োজন। কোন জেলায় গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান, কারিগরি বা মাদ্রাসার কোন বিষয়ে কত পদ শূন্য এবং কত নিবন্ধিত প্রার্থী আছেন—এই তথ্য আগে থেকেই জানা গেলে পরীক্ষার আসন ও নিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী করা সম্ভব হবে।

    ৮. দ্রুত আপিল ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। নিয়োগের ফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থী অনলাইনে অভিযোগ করতে পারবেন এবং কেন্দ্রীয়ভাবে তা নিরীক্ষা করা হবে।

    ৯. দূরের পদায়ন সমস্যার সমাধানে বদলিব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে। নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট করে স্থানীয় নিয়োগে পুরোপুরি ফিরে যাওয়ার বদলে কয়েক বছর চাকরির পর স্বচ্ছ অনলাইন বদলির সুযোগ দিলে একই সমস্যা কম ঝুঁকিতে সমাধান করা সম্ভব।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত সতর্কতা

    বর্তমান বিতর্কে কয়েকটি সংখ্যার মধ্যে অসামঞ্জস্যও দেখা যাচ্ছে, যা নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে সরকারি তথ্য প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।

    ৩ আগস্টের কার্যবিবরণী নিয়ে ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য পাওয়া যায় এবং যাচাইয়ের পর তা ৭৫ হাজার ৭৬৯-এ নামে। এরপর ১৮তম নিবন্ধনের ৯ হাজার ৮৪২ জনকে বিবেচনায় রেখে অবশিষ্ট পদ ৬৫ হাজার ১২৭ বলা হয়েছে। কিন্তু ৭৫,৭৬৯ থেকে ৯,৮৪২ বাদ দিলে গাণিতিকভাবে ফল হয় ৬৫,৯২৭, ৬৫,১২৭ নয়। অর্থাৎ ওই অংশে হয় কোনো অতিরিক্ত ৮০০ পদ বাদ দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি, অথবা নথি বা প্রতিবেদনের কোনো সংখ্যায় ভুল রয়েছে।

    একইভাবে মোট সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকসংখ্যায় সংবাদমাধ্যমে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ বলা হলেও এনটিআরসিএর ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ হালনাগাদ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪।

    এ ধরনের অসামঞ্জস্য একটি বড় শিক্ষা দেয়—নীতিগত পরিবর্তনের আগে সরকারকে পূর্ণাঙ্গ তথ্যপত্র, ৩ আগস্টের অনুমোদিত কার্যবিবরণী, আইনি মতামত এবং পরিবর্তনকালীন পরিকল্পনা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।

    তাহলে কি এনটিআরসিএ ব্যবস্থা সফল, নাকি ব্যর্থ?

    উত্তরটি দুটির মাঝামাঝি।

    স্বচ্ছতার জায়গায় এনটিআরসিএ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। কেন্দ্রীয় আবেদন, প্রযুক্তিনির্ভর মেধাক্রম, প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম এবং স্বয়ংক্রিয় সুপারিশ ব্যবস্থা স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি দরকষাকষির সুযোগ কমিয়েছে। সরকারি এনটিআরসিএ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক এই ব্যবস্থায় সুপারিশ পেয়েছেন।

    কিন্তু দক্ষতা ও শূন্যপদ পূরণের জায়গায় বড় সমস্যা আছে। এক লাখের বেশি পদের ষষ্ঠ নিয়োগে প্রায় ৪১ হাজার এবং ৬৭ হাজারের বেশি পদের সপ্তম বিশেষ নিয়োগে মাত্র ১১ হাজার ৭১৩ জনকে সুপারিশ করা সম্ভব হয়েছে।

    অর্থাৎ এনটিআরসিএ দুর্নীতির ঝুঁকি কমিয়েছে, কিন্তু শিক্ষক সংকট পুরোপুরি সমাধান করতে পারেনি।

    এই ব্যর্থতারও আবার দুটি অংশ রয়েছে—প্রশাসনিক জটিলতা এবং যোগ্য প্রার্থীর চাহিদা-সরবরাহের অসামঞ্জস্য। দ্বিতীয় সমস্যাটি ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা দিলেও থেকে যাবে।

    আসল সংস্কার কোথায় প্রয়োজন?

    শিক্ষক নিয়োগের এই বিতর্ককে যদি শুধু “এনটিআরসিএ থাকবে নাকি থাকবে না” পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়, তাহলে মূল সমস্যাগুলো আড়ালে চলে যাবে।

    ১৮ লাখের বেশি মানুষ শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদন করছেন, অথচ প্রয়োজনীয় বিষয় ও যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কয়েক দশক হাজার প্রার্থীই চাকরির জন্য উপযুক্ত অবস্থানে পৌঁছাচ্ছেন। একই সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫০–৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য থাকার তথ্য বারবার সামনে আসছে।

    এটি নিয়োগব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষক জনবল পরিকল্পনারও সমস্যা।

    কোন বিষয়ে আগামী পাঁচ বছরে কত শিক্ষক প্রয়োজন, কোন অঞ্চলে শিক্ষক সংকট বেশি, কোন বিষয়ে নিবন্ধিত প্রার্থী অতিরিক্ত এবং কোন বিষয়ে ভয়াবহ ঘাটতি—এই তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধন পরীক্ষা ও শিক্ষক তৈরির পরিকল্পনা না করলে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ বদলালেও শূন্যপদ থাকবে।

    বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটিকে আবার ক্ষমতা দেওয়ার আলোচনা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বড় মোড় তৈরি করতে পারে। তবে ১১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত এটিকে “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত” বলা ঠিক হবে না। ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণীতে পরিবর্তনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকলেও শিক্ষামন্ত্রী পরে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং পর্যালোচনা চলছে।

    এই বিতর্কে দুই পক্ষেরই শক্ত যুক্তি আছে।

    এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নিয়োগকে তুলনামূলকভাবে প্রযুক্তিনির্ভর, মেধাভিত্তিক ও যাচাইযোগ্য করেছে। আবার একই ব্যবস্থায় বিপুলসংখ্যক শূন্যপদ বছরের পর বছর পূরণ না হওয়া, বিষয়ভিত্তিক প্রার্থী সংকট, দূরে নিয়োগ এবং প্রশাসনিক জটিলতার বাস্তব সমস্যাও রয়েছে।

    ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা ফিরলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা বাড়বে এবং কাছাকাছি এলাকার শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু নিয়োগ বোর্ডের ওপর শক্তিশালী তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি না থাকলে এর সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি এবং আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক জাল সনদ ও আর্থিক অনিয়মের তদন্তগুলো এই পরিচালনাগত ঝুঁকিকে উপেক্ষা না করার কারণ দেয়।

    তাই সবচেয়ে কার্যকর পথ সম্ভবত পুরোনো ব্যবস্থায় হুবহু ফিরে যাওয়া নয়।

    বরং দরকার এমন একটি সমন্বিত, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও নিরীক্ষাযোগ্য নিয়োগব্যবস্থা, যেখানে এনটিআরসিএ জাতীয় মেধা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করবে, প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে পাঠদানের দক্ষতা যাচাই করবে, স্থানীয় প্রার্থীকে স্বচ্ছ নিয়মে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে এবং প্রতিটি নম্বর ও সিদ্ধান্ত অনলাইনে যাচাই করা যাবে।

    কারণ শিক্ষক নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য কোনো সংস্থার ক্ষমতা বাড়ানো বা কমানো নয়।

    মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—

    সঠিক শিক্ষককে, সঠিক প্রতিষ্ঠানে, দ্রুততম সময়ে এবং কোনো ঘুষ–তদবির ছাড়াই পৌঁছে দেওয়া।

    শেষ পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগের ভুল সিদ্ধান্তের মূল্য শুধু একজন চাকরিপ্রার্থী দেন না। সেই মূল্য দিতে হয় একটি শ্রেণিকক্ষকে, একটি প্রজন্মকে এবং দীর্ঘমেয়াদে পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    রামুতে দুই মাসের শিশুকে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

    আগস্ট 11, 2026
    বিশ্লেষণ

    বাণিজ্য থেকে চিকিৎসা: বাংলাদেশের কূটনীতিতে নির্ভরতা বনাম কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন

    আগস্ট 11, 2026
    আইন আদালত

    স্ট্রেচারে করে আদালতে আসামি, চিকিৎসা চালানোর পরামর্শ বিচারকের

    আগস্ট 11, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.