রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান। পরে এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
সাক্ষাতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রায় ৪ হাজার রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী দিনরাত কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আগামী মাসের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একটি যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আগ্রহ দেখিয়েছে।
এ ছাড়া মস্কোতে একটি বড় পরিসরে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী নভেম্বরের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের আন্তসরকার কমিশনের বিশেষ বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানান তিনি।
প্রস্তাবিত ব্যবসায়িক ফোরামে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বিভিন্ন বৈঠক ও আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পণ্যের ধরন ও ব্যবসায়িক আগ্রহের ভিত্তিতে দুই দেশের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক বৈঠকও থাকতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন খাতগুলোতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক। তিনি রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং সিরামিকের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
এর জবাবে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে সাধারণ ধরনের ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও আইনি বিষয়গুলো রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে। রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাশিয়ার শ্রমবাজারের বিভিন্ন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন আলেক্সান্দার খোজিন। তাঁর মতে, দেশটির কৃষি, মৎস্য, জাহাজ নির্মাণ ও সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে রাশিয়া ভিসা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

