Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, আগস্ট 28, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বিশ্ব অর্থনীতি চালায় কারা? মালিকানা নাকি প্রভাবের খেলা?
    বিশ্ব অর্থনীতি

    বিশ্ব অর্থনীতি চালায় কারা? মালিকানা নাকি প্রভাবের খেলা?

    এফ. আর. ইমরানUpdated:আগস্ট 27, 2026আগস্ট 27, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল, কোকাকোলা, পেপসি, বড় বড় ওষুধ কোম্পানি, তেল কোম্পানি কিংবা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার তালিকা খুললেই একটি বিষয় চোখে পড়ে। ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসা, ভিন্ন ভিন্ন দেশ ও ভিন্ন ভিন্ন শিল্পের কোম্পানি হলেও তাদের বড় শেয়ারহোল্ডারদের তালিকায় বারবার ফিরে আসে একই কয়েকটি নাম। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত দুটি হলো- ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরক এবং অনেক সময় স্টেট স্ট্রিট অথবা ‘বিগ থ্রি’।

    এই দৃশ্য থেকেই একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে- এত কোম্পানির মালিকানায় একই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম কেন? তাহলে কি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলো আসলে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে? আর যদি তাই হয়, সেই অর্থের প্রকৃত মালিকই বা কারা?

    ইন্টারনেটে এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আরও এক ধাপ এগিয়ে বলা হয়, ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরক নাকি পৃথিবীর ‘গোপন মালিক’; তারা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, যুদ্ধের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে কিংবা বিশ্ব অর্থনীতির মূল সুইচ তাদের হাতে। কিন্তু বাস্তব চিত্র এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল। কারণ এখানে ‘মালিকানা’, ‘অর্থের মালিক’, ‘শেয়ার পরিচালনা’ এবং ‘ভোটিং ক্ষমতা’- চারটি বিষয়কে এক করে দেখলে পুরো হিসাবটাই ভুল হয়ে যায়।

    ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরক মূলত অ্যাসেট ম্যানেজার। অর্থাৎ তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা বিপুল সম্পদের বড় অংশ তাদের নিজেদের টাকা নয়। বিভিন্ন ব্যক্তি, পেনশন ফান্ড, অবসরকালীন সঞ্চয়, প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীর অর্থ তারা বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে পরিচালনা করে। ভ্যানগার্ড নিজেও বলছে, তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা সম্পদ বিনিয়োগকারীদের এবং তারা নিজেদেরকে ‘অ্যাসেট ম্যানেজার, অ্যাসেট ওনার নয়’ হিসেবে বর্ণনা করে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভ্যানগার্ডের বিনিয়োগকারী ছিল ৫ কোটির বেশি।

    তাহলে শেয়ারহোল্ডার তালিকায় ভ্যানগার্ড বা ব্ল্যাকরকের নাম আসে কেন?

    এর উত্তর লুকিয়ে আছে আধুনিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটিতে- ইনডেক্স ফান্ড ও ইটিএফ (ETF)-এর বিস্তারে।

    একজন বিনিয়োগকারী চাইলে নিজে অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল কিংবা অন্য কোম্পানির শেয়ার আলাদাভাবে কিনতে পারেন। কিন্তু আরেকটি পথ হলো এমন একটি ফান্ডে বিনিয়োগ করা, যার লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট সূচক অনুসরণ করা। সেই সূচকে থাকা শত শত কোম্পানির শেয়ার তখন ফান্ডের ভেতরে চলে আসে। ফলে একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী একটি ফান্ড কিনেই একসঙ্গে বহু কোম্পানির মালিকানার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান।

    এই ব্যবস্থাই ভ্যানগার্ডের মতো প্রতিষ্ঠানকে বিশাল করে তুলেছে। জন বোগলের দর্শনের অন্যতম ভিত্তি ছিল কম খরচে বাজারের গড় ফলাফল অনুসরণ করা। সময়ের সঙ্গে ইনডেক্স বিনিয়োগের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। আর কোটি কোটি বিনিয়োগকারীর অর্থ যখন একই ধরনের ফান্ডে প্রবেশ করে তখন সেই ফান্ডের হাতে থাকা কোম্পানির শেয়ারের সংখ্যাও বিশাল হয়ে ওঠে।

    ব্ল্যাকরকের উত্থানের পথ আবার কিছুটা আলাদা। বিশেষ করে আইশেয়ারস (iShares)-এর মাধ্যমে ইটিএফ (ETF) বাজারে তাদের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। ফলে ব্ল্যাকরকের বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমেও বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা হয়।

    এ কারণেই একই তালিকায় ভ্যানগার্ড, ব্ল্যাকরক এবং অনেক সময় স্টেট স্ট্রিটের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়। বিষয়টি বোঝার জন্য একটি বাস্তব উদাহরণ যথেষ্ট। ২০২৬ সালের ম্যাকডোনাল্ডসের একটি মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা দেওয়া নথিতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ভ্যানগার্ডের নামে প্রায় ১০.০৩ শতাংশ এবং ব্ল্যাকরকের নামে প্রায় ৭.৩ শতাংশ শেয়ার ছিল; স্টেট স্ট্রিটেরও ৫ শতাংশের বেশি ছিল।

    স্টেট স্ট্রিটও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যাসেট ম্যানেজার। ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরকের মতো তারাও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে পরিচালনা করে। ফলে ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বড় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার তালিকায় স্টেট স্ট্রিটের নাম থাকাও অস্বাভাবিক নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্টেট স্ট্রিটের হাতে থাকা শেয়ারের অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানটি নিজের অর্থ দিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসের মালিকানা কিনেছে। এর বড় অংশ বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও ফান্ডের অর্থে গঠিত। তবে শেয়ার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ভোটাধিকার প্রয়োগের কারণে স্টেট স্ট্রিটের মতো প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সিদ্ধান্ত ও পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব তৈরি হতে পারে।

    কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল হয়। তালিকায় ‘ভ্যানগার্ড’ লেখা আছে মানেই ভ্যানগার্ডের মালিকেরা নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে ম্যাকডোনাল্ডস কিনেছেন- এমন নয়। বিভিন্ন ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ সেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

    ভ্যানগার্ডের ক্ষেত্রে কাঠামোটি আরও অস্বাভাবিক। ভ্যানগার্ডের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মালিক তার ফান্ডগুলো এবং সেই ফান্ডগুলোর মালিক তাদের বিনিয়োগকারীরা। অর্থাৎ ভ্যানগার্ডের মালিকানা কাঠামো প্রচলিত পাবলিক কোম্পানির মতো নয়।

    তাহলে আসল প্রশ্নটা অন্য জায়গায় চলে যায়।

    টাকার মালিক যদি কোটি কোটি বিনিয়োগকারী হন, সেই টাকার মাধ্যমে কেনা শেয়ারের ভোট কে দেয়?

    এখানেই ভ্যানগার্ড-ব্ল্যাকরককে ঘিরে আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    শেয়ার শুধু একটি কোম্পানির ভবিষ্যৎ লাভের অংশ পাওয়ার অধিকার নয়। অনেক শেয়ারের সঙ্গে ভোট দেওয়ার অধিকারও থাকে। পরিচালক নির্বাচন, পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কিংবা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও নীতির ওপর শেয়ারহোল্ডারদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ফলে কোনো অ্যাসেট ম্যানেজার যখন বিপুলসংখ্যক কোম্পানির শেয়ার পরিচালনা করে, তখন তার ভোটিং সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    এখানেই ‘মালিকানা’ ও ‘প্রভাব’-এর পার্থক্য।

    ভ্যানগার্ড বা ব্ল্যাকরক হয়তো কোনো কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ার ধরে আছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কোম্পানিটির ১০ শতাংশ অর্থ তাদের নিজস্ব সম্পদ। আবার এটাও বলা যায় না যে সেই শেয়ারের সঙ্গে কোনো প্রভাব নেই। কারণ শেয়ার পরিচালনার সঙ্গে ভোটিং ও করপোরেট গভর্ন্যান্সের বিষয়টি জড়িয়ে আছে।

    অর্থাৎ অর্থের মালিক আর ভোটের ব্যবস্থাপক একই ব্যক্তি নাও হতে পারেন।

    এই পার্থক্যটি বোঝা না গেলে ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরককে ঘিরে প্রায় সব ষড়যন্ত্র তত্ত্বই সত্য বলে মনে হতে পারে।

    তবে বিপরীত দিকটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

    যদি কয়েকটি বড় অ্যাসেট ম্যানেজার একই সঙ্গে একটি শিল্পের প্রায় সব বড় কোম্পানিতে উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধরে রাখে, তাহলে তাদের সম্মিলিত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ একজন বিনিয়োগকারী একটি কোম্পানিতে শেয়ার রাখছেন- এটি এক বিষয়। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠান যদি একই সময়ে একটি শিল্পের বহু প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির শেয়ার পরিচালনা করে, তাহলে করপোরেট সিদ্ধান্ত ও প্রতিযোগিতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে- সেটি অর্থনীতিবিদ ও নিয়ন্ত্রকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    এখানে আবারও সতর্ক থাকা দরকার। একই শেয়ারহোল্ডার থাকা মানেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি গোপনে একসঙ্গে কাজ করছে- এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। ইনডেক্স ফান্ডের কাঠামোই এমন যে নির্দিষ্ট সূচকে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর শেয়ার একই ফান্ডে থাকা স্বাভাবিক।

    কিন্তু স্বাভাবিক হওয়া আর প্রভাবহীন হওয়া এক বিষয় নয়।

    এ কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হয়তো চোখে পড়ার মতো কোনো কারখানা, ব্যাংক বা সরকারের উত্থান নয়। পরিবর্তনটি ঘটছে মানুষের সঞ্চয় কীভাবে বিনিয়োগ হচ্ছে তার ভেতরে।

    একজন আমেরিকান কর্মী তার অবসরকালীন অ্যাকাউন্টে টাকা জমাচ্ছেন। আরেকজন শিক্ষক পেনশন ফান্ডে অর্থ দিচ্ছেন। কোনো প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের অবসর তহবিল বিনিয়োগ করছে। কোনো সাধারণ বিনিয়োগকারী ইটিএফ (ETF) কিনছেন। আলাদাভাবে এসব অর্থ খুব ছোট মনে হলেও একই ধরনের ফান্ডের মাধ্যমে যখন কোটি কোটি মানুষের অর্থ একত্র হয়, তখন তা বিশাল করপোরেট মালিকানায় রূপ নেয়।

    এই কারণেই ভ্যানগার্ড বা ব্ল্যাকরকের ক্ষমতার আসল উৎস তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। তাদের শক্তি হলো অন্য মানুষের বিপুল পরিমাণ অর্থ একসঙ্গে পরিচালনা করার সক্ষমতা।

    এখানে ব্ল্যাকরকের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ- ‘আলাদিন’ (ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তি)।

    আলাদিনকে ঘিরে ইন্টারনেটে এমন ধারণাও প্রচলিত যে, এটি নাকি বিশ্বের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। বাস্তবে এটি মূলত একটি বড় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম। অর্থাৎ বিভিন্ন বিনিয়োগে ঝুঁকি কী, বাজারের পরিবর্তনে পোর্টফোলিও কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে- এসব বিশ্লেষণে প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হয়। এটিকে পৃথিবীর অর্থনীতির একক ‘কন্ট্রোল রুম’ হিসেবে দেখা বাস্তবতার অতিরঞ্জন।

    তবে ব্ল্যাকরকের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার আরেকটি কারণ রয়েছে- বিভিন্ন সময় মার্কিন সরকারি প্রতিষ্ঠানও আর্থিক বাজারের সংকটে তাদের সক্ষমতা ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ একটি বেসরকারি অ্যাসেট ম্যানেজারের প্রযুক্তি ও বাজারজ্ঞান যখন সরকারি ব্যবস্থাপনাতেও কাজে লাগে, তখন প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব শুধু বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

    কিন্তু এখানেও ‘সরকার নিয়ন্ত্রণ করে’ বলা এবং ‘সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে’- দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি।

    তাহলে কি ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরক পৃথিবী চালায়?

    উত্তর হয়তো, না- অন্তত সরাসরি অর্থে নয়।

    তারা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে, যুদ্ধ বাধায় কিংবা বিশ্বের সব বড় কোম্পানির মালিক- এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বিশ্বের অর্থনীতি একক কোনো কোম্পানি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে পরিচালিত হয় না। সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি, পেনশন ফান্ড, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী এবং অসংখ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েই এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।

    কিন্তু এখানেই গল্পের আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশটি শুরু হয়।

    ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরক পৃথিবীর ‘মালিক’ না হলেও তারা এমন এক আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করছে, যেখানে কোটি কোটি মানুষের সঞ্চয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর মালিকানায় পরিণত হচ্ছে।

    অর্থাৎ ক্ষমতাটি হয়তো তাদের নিজের টাকা থেকে আসছে না। ক্ষমতাটি আসছে কার টাকা তারা পরিচালনা করছে এবং সেই টাকার সঙ্গে যুক্ত মালিকানা ও ভোটিং অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে- সেখান থেকে।

    এই কারণেই ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন হয়তো হবে না- ‘ভ্যানগার্ড ও ব্ল্যাকরক পৃথিবীর মালিক কি না?’

    বরং প্রশ্ন হবে- বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সঞ্চয় যখন কয়েকটি বৃহৎ অ্যাসেট ম্যানেজারের মাধ্যমে একই সঙ্গে হাজার হাজার কোম্পানির মালিকানায় পরিণত হচ্ছে, তখন সেই মালিকানার সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতা কতটা কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত?

    এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। কারণ একদিকে ইনডেক্স ফান্ড সাধারণ মানুষের জন্য কম খরচে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে একই ব্যবস্থার সাফল্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে বিপুল করপোরেট ভোটিং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    তাই ভ্যানগার্ড-ব্ল্যাকরকের গল্প আসলে কোনো গোপন ষড়যন্ত্রের গল্প নয়। এটি আধুনিক পুঁজিবাদের কাঠামো বদলে যাওয়ার গল্প।

    আগের যুগে মানুষ ভাবত, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্ষমতা যার হাতে সবচেয়ে বেশি কারখানা, জমি, ব্যাংক বা নগদ অর্থ আছে তার হাতে। এখন ক্ষমতার একটি বড় অংশ তৈরি হচ্ছে অন্য মানুষের সঞ্চয় পরিচালনার সক্ষমতা থেকে।

    আর সেই জায়গাতেই আসল প্রশ্নটি দাঁড়ায়- পৃথিবী আসলে কারা চালায়? যাদের হাতে টাকা আছে, নাকি যারা কোটি কোটি মানুষের টাকা একসঙ্গে পরিচালনা করে?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    অননুমোদিত ঋণ অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বিএফআইইউর সতর্কতা

    আগস্ট 28, 2026
    অর্থনীতি

    ইনভেস্ট বাংলাদেশ: প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?

    আগস্ট 27, 2026
    বিশ্লেষণ

    মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‘ভগত সিং’ কেন ঈশ্বরকে অস্বীকার করেছিলেন?

    আগস্ট 27, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.