সাধারণ একজন ঋণগ্রহীতা মাত্র দুই লাখ টাকার কিস্তি একটু দেরিতে দিলেই তাঁর মুঠোফোনে একের পর এক তাগাদার বার্তা আসে, বাড়িতে পাঠানো হয় নোটিশ, শেষমেশ গড়ায় মামলা পর্যন্ত। অথচ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর তা ফেরত না দেওয়া অনেক বড় ঋণগ্রহীতাকে উল্টো দেওয়া হয় নানা নীতিগত সুবিধা। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়, বরং প্রায় নিয়মিতই শোনা যায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশে খেলাপি ঋণের অঙ্ক ক্রমেই স্ফীত হয়ে উঠেছে। দুই হাজার নয় সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র বাইশ হাজার কোটি টাকার মতো। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি এসে তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ এক হাজার কোটি টাকায়। আর ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ এই অঙ্ক পৌঁছে যায় প্রায় পাঁচ লাখ উননব্বই হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র দুই দশকের মধ্যেই খেলাপি ঋণের বোঝা সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকারও বেশি বেড়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা নীতিগত পদক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা, বরং তা আরও খারাপ হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের স্থিতি ছয় লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় তেত্রিশ শতাংশের সমান। এই তথ্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এত বিশাল খেলাপির মুখোমুখি হয়েও সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর কোনো পথে না হেঁটে বরং আবারও সুবিধা দেওয়ার নীতিই বেছে নিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, ছাড় দিয়ে হলেও খেলাপিদের কাছ থেকে কিছু অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু এই কৌশল আদৌ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের ভাষ্য হলো, দেশের আর্থিক খাত এখন এতটাই ভঙ্গুর যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। তবে তাঁরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বর্তমান কৌশল কতটা সফল হবে তা মূলত নির্ভর করছে বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কঠোর তদারকি না থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও তাঁদের আশঙ্কা।
তাঁদের মতে, ব্যাংক খাত রক্ষা করতে হলে শুধু নীতি সহায়তা দিলেই চলবে না, পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা। নইলে আজকের ছয় লাখ কোটি টাকা আগামী বছরই আট লাখ কোটিতে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না।
২০২৪ সালের গণআন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল অবস্থা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। নতুন সরকার আসার পর কাগজে-কলমে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে খেলাপি ঋণ কমার বদলে বরং তা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে বিচার-বিবেচনাহীনভাবে ঋণ বিতরণ। দ্বিতীয়ত, ঋণ ব্যবহারের যথাযথ তদারকির অভাব। আর তৃতীয়ত, ব্যাংক পরিচালকদের নিজের বা আত্মীয়স্বজনের নামে-বেনামে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা। গত কুড়ি বছরে কিছু বড় শিল্প গোষ্ঠী ও ব্যাংকের আর্থিক অনিয়মই মূলত এই খেলাপি ঋণের পাহাড় তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, খেলাপি ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত হারে অর্থ সংরক্ষণের যে নিয়ম রয়েছে, তা-ও পালন করতে পারছে না বহু ব্যাংক। ফলে তারল্য সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কঠোর ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। যুক্তরাষ্ট্রে বড় খেলাপিদের ক্রেডিট স্কোর শূন্যের কোঠায় নেমে যায়, ফলে তাঁরা নতুন করে কোনো ঋণ পান না। চীনে আবার খেলাপিদের রাখা হয় এক ধরনের সামাজিক তালিকায়, যা তাঁদের নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। প্রতিবেশী ভারতে দেউলিয়া আইনের মাধ্যমে বড় খেলাপি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিলামে তোলার নজির আছে।
কিন্তু বাংলাদেশে অর্থঋণ আদালত ও ঋণ আদায় সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে বাস্তবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উদাহরণ খুবই কম। একটি ব্যাংক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ না করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে এখন পর্যন্ত কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি, এটি স্পষ্ট।
আইনি জটিলতাও এই সমস্যার একটি বড় কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়, যার কারণে ব্যাংকগুলো নিজেরাই মামলা করতে খুব একটা উৎসাহী হয় না। এ ছাড়া মামলা করলে ব্যাংকের নিজস্ব আর্থিক প্রতিবেদনও খারাপ দেখানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
আরেকটি বাস্তবতা হলো, বড় খেলাপিদের বেশিরভাগই শিল্প গোষ্ঠী, যাদের কারখানায় কাজ করেন লাখো শ্রমিক এবং যাদের রপ্তানিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। এই কারণে সরকার ও ব্যাংক মনে করে, তাদের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করলে কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং বেকারত্ব বেড়ে যেতে পারে। ফলে বারবারই এসব প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার নীতি নেওয়া হয়। মামলা হলেও তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, আর এই সুযোগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল বা অবলোপনের ব্যবস্থা করে নেন খেলাপিরা।
যেহেতু ঋণখেলাপি একটি দেওয়ানি বিষয়, তাই ব্যাংককে টাকা আদায়ের জন্য মামলার আশ্রয় নিতে হয়। আর বড় খেলাপিরা দক্ষ আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে সহজেই মামলা দীর্ঘায়িত করতে পারেন।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আবার ভিন্ন এক সংকট দেখা যায়—যাঁদের দায়িত্ব ব্যাংক রক্ষা করার, তাঁরাই কখনো কখনো নিয়ম ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়ান। ব্যাংকের পরিচালক নিজেই প্রায়ই আত্মীয়স্বজনের প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে থাকেন, যেখানে জবাবদিহিতার বড় ঘাটতি তৈরি হয়। বর্তমানে দেশে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই স্বাভাবিক নিয়মে পরিশোধ হচ্ছে না বলে জানা যাচ্ছে।
গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক অবস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা দিতে একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে পুনঃতফসিল বা নবায়নের পর পরিশোধের জন্য পনেরো বছর পর্যন্ত সময় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুরুর দুই বছর কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না।
এই সুবিধা নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি মাসের মধ্যেই আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, আর ব্যাংকগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে সেসব আবেদন নিষ্পত্তি করবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরেও অনুরূপ একটি নির্দেশনা জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেখানে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিদ্যমান খেলাপি স্থিতির ওপর অন্তত দুই শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছিল। শর্ত মেনে ঋণ নিয়মিত হলে দুই বছরের বিরতিসহ মোট দশ বছর সময় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ভর্তুকি সুদে ষাট হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য।
বড় খেলাপিদের এমন সুবিধা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর সপক্ষে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দেয়, যেখানে মূলত তিনটি কারণ তুলে ধরা হয়। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাবে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমেছে। দ্বিতীয়ত, বাজারভিত্তিক সুদহারের কারণে ব্যবসায়ীদের সুদ খরচ বেড়েছে, অথচ বিক্রি কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়েছে। আর তৃতীয়ত, খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে ঘোষিত আঠারো মাসের একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বড় ঋণগ্রহীতাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি হলো, মামলা চালিয়ে দশ বছরে যে টাকা আদৌ ফেরত না-ও আসতে পারে, তার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে অর্ধেক অর্থ এখনই আদায় হলে ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি কারখানা সচল থাকলে কর্মসংস্থানও অক্ষুণ্ন থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ছাড়-নির্ভর নীতির বিপক্ষে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের অনেকের আশঙ্কা, ঋণ পুনঃতফসিল করলে কাগজে-কলমে খেলাপির পরিমাণ কমে যেতে পারে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের কোষাগারে কত টাকা ফিরে আসবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় থেকে যায়। এ ছাড়া নিয়মিতভাবে ঋণ পরিশোধ করা গ্রাহকদের সঙ্গে এতে বৈষম্য তৈরি হয়, আর দীর্ঘমেয়াদে এটি একধরনের ‘নিয়ম ভেঙেও পার পাওয়ার’ সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে বলে তাঁদের শঙ্কা।
একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একজন বিশিষ্ট ফেলো সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এই ধরনের সুযোগের অপব্যবহার করে খেলাপিরা আরও গভীর খেলাপির দিকে চলে যেতে পারেন। এ কারণেই বিষয়টি ব্যাংক ও গ্রাহকের নিজস্ব সম্পর্কের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যাংকগুলোরও একটি বড় দায়িত্ব বর্তায়।
সমাধান হিসেবে অর্থনীতিবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন ব্যাংক পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন কমিশন গঠন, অর্থঋণ আদালতে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি এবং বড় খেলাপিদের বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কঠোর পদক্ষেপ।
ব্যাংক ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ওই শিক্ষকের ভাষায়, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙা মোটেও সহজ কাজ নয়। এ জন্য প্রয়োজন কঠোরতম পদক্ষেপ, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তাঁর মতে, এই সুবিধাগুলো যেন ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা অপব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি এবং এটি যেন স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবেই থাকে, দীর্ঘমেয়াদি নীতি না হয়ে যায়।
তবে এসব পদক্ষেপের পরও যাঁরা শেষ পর্যন্ত ঋণ ফেরত দেবেন না, তাঁদের জন্য কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলো আরও বলেন, এই পরিকল্পনার সাফল্য বা ব্যর্থতা মূলত নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। রাজনৈতিকভাবে ব্যাংকগুলোকে প্রভাবিত করা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এসব উদ্যোগ হয়তো সুস্থ ধারায় ফেরার ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়ক হতে পারে, তবে পুরোপুরি সমাধান আনতে পারবে না। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় নেই এবং এই সংকট থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসাও সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত ঋণগুলোকে নিয়মিত করার এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক হিসাব স্বচ্ছ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

