দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঁচশ বত্রিশটি সেফ ডিপোজিট লকার অবশেষে খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরই এই লকারগুলো অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তবে কমিশনের দায়ের করা এক মামলার আসামি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক একজন উপগভর্নরের লকার এখনো বন্ধই থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে থাকা সিলগালাকৃত সেফ ডিপোজিট বক্স ও প্যাকেট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর লকার সুবিধা বন্ধ করে দেয়, যা আজও বলবৎ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে আবেদন জানায়, যাতে কেবল অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের লকার বন্ধ রেখে বাকি সবার লকার আবার সচল করা যায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর কমিশন তালিকাভুক্ত পাঁচশ বত্রিশজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর লকার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে কমিশনের একটি নির্দেশনার মাধ্যমে এসব লকার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সামগ্রিকভাবে লকার সুবিধা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক কমিশনের কাছে আবারও চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ-সম্পৃক্তদের বাদ দিয়ে বাকিদের লকার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়, শুধু মামলার আসামি ও সাবেক ওই উপগভর্নরের লকার বাদে তালিকায় থাকা বাকি সবার লকার অবমুক্ত করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দেড় বছর ধরে আটকে থাকা শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত সেফ ডিপোজিট লকার ব্যবহারের জটিলতা কাটতে যাচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন করে কাউকে লকার সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল থাকছে। অর্থাৎ বর্তমানে ফ্রিজ থাকা তালিকাভুক্ত লকারগুলো খুলে দেওয়া হলেও নতুন লকার বরাদ্দের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

