মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ—
কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল বিন্ট জেবেইল ও খিয়ামে বোমাবর্ষণ করে দক্ষিণ লেবাননের শহর দুটিকে বারবার ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলের আগ্রাসী সেনাবাহিনীর কাছে কোনোটিই পুরোপুরি পতন হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে প্রতীকী ও কৌশলগত গুরুত্ব বহনকারী হিজবুল্লাহর এই ঘাঁটিগুলোর টিকে থাকা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা এবং এর রক্ষাকারীদের জন্য ভূখণ্ডের কৌশলগত শক্তিকে উন্মোচিত করেছে।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র, যাদের মধ্যে একজন দক্ষিণাঞ্চলের লড়াই সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত, যিনি সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বর্ণনা করেছেন কীভাবে ইসরায়েল লেবাননের এই সশস্ত্র আন্দোলনকে হটাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
বলা হয়, তীব্র সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে ইসরায়েলি সামরিক অগ্রযাত্রা শুধু থমকে যায়নি। ভূখণ্ড, নগর যুদ্ধের বাস্তবতা এবং তাদের নেতাদের দ্বারা নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্বের কারণেই ইসরায়েলি সৈন্যরা ব্যর্থ হয়েছিল।
বিন্ট জেবেইল এবং খিয়াম উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নটি কেবল এই ছিল না যে ইসরায়েলি বাহিনী অগ্রসর হতে পারবে কি না, বরং তারা শহরগুলো দখল করে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে পারবে কি না।
এই ব্যর্থতা লেবাননের দক্ষিণে যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি উপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
এতে আরো ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কেন ইসরায়েল ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও নিজেদের দখলে থাকা এলাকাগুলোতে ভবন ভাঙা অব্যাহত রেখেছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ প্রচার করছে।
“প্রতিটি লড়াইয়ের পর্বেই ইসরায়েলিদের জন্য বিন্ট জেবাইলের প্রশ্নটি সবসময়ই ছিল,” হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে।
শহরটি ইসরায়েলিদের মনে এক দুঃস্বপ্নের মতো গেঁথে গেছে এবং এক ধরনের পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) সৃষ্টি করেছে।
একটি প্রতীকী লক্ষ্য
লেবাননের রাজনৈতিক কল্পনায় বিন্ট জেবেইল এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছে।
২০০০ সালের মে মাসে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের প্রত্যাহারের পর সেখানেই, প্রয়াত হিজবুল্লাহ মহাসচিব হাসান নাসরাল্লাহ তাঁর বিখ্যাত ভাষণটি দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি ইসরায়েলকে “মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল” বলে বর্ণনা করেন।
এর ফলেই শহরটি ইসরায়েলের একটি প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে বলে মনে হয়। ২০০৬ সালে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি যুদ্ধে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্র—যেখানে শেষ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ জয়লাভ করে।
আর এই সর্বশেষ সংঘাতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আবারও বিন্ট জেবেইলকে একটি প্রধান সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং প্রতীকী পুরস্কার হিসেবে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে, দুই দশক আগের যুদ্ধের সঙ্গে একটি পার্থক্য ছিল, ইসরায়েলের অভিযানগত লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন এসেছিল।
শুরুতে, লক্ষ্যটি কেবল একটি শহর দখল করার চেয়েও ব্যাপক বলে মনে হয়েছিল।
ইসরায়েল কাওজাহ, ওয়াদি আল-ওয়ুন, হাদ্দাথা, আইতারুন, ওয়াদি আল-স্কিকিয়েহ এবং ওয়াদি আল-স্লুকি-সহ পার্শ্ববর্তী শহর ও গ্রামগুলোতে যাওয়ার রাস্তাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে বৃহত্তর বিন্ট জেবেইল জেলাকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল।
যদি তা সফল হতো, তবে তা বিন্ট জেবেইলকে তার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিত এবং আরও টেকসই সামরিক দখলের ভিত্তি স্থাপন করত। কিন্তু ইসরায়েলের বারবার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এমইই-এর সূত্র জানায়, এর কারণ হলো হিজবুল্লাহ গাজায় ইসরায়েলের কৌশল অধ্যয়ন করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিল।
পরিবর্তে, অভিযানটি সংকুচিত হয়ে এল। যা একটি গোটা এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা একটিমাত্র শহর অবরোধ করার প্রচেষ্টায় পরিণত হলো।
এটি কোনো সামান্য কৌশলগত পরিবর্তন ছিল না। এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছিল: উন্মুক্ত ভৌগোলিক এলাকা নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ নগর কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করা, যাকে একটি দৃশ্যমান সামরিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, বৃহত্তর বিন্ট জেবেইল জেলাকে বিচ্ছিন্ন করতে ইসরায়েলের অক্ষমতাকে দলটি একটি উল্লেখযোগ্য রণক্ষেত্রের সাফল্য হিসেবে দেখছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, শহরটি সম্পূর্ণ অবরোধ করার বিষয়ে ইসরায়েলিদের করা সমস্ত দাবিই অসঠিক ছিল।
“হ্যাঁ, বিভিন্ন দিক থেকে চাপ ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তেও আশেপাশের পথগুলো দিয়ে আমাদের কাছে রসদ ও গোলাবারুদ পৌঁছাচ্ছিল” দ্বিতীয় সূত্রটি জানায়।
সূত্রটি আরো যোগ করেছে যে, বিন্ট জেবেইল “একটি অভিযান কেন্দ্র হিসেবে রয়ে গেছে যেখান থেকে অন্যান্য এলাকায় আক্রমণ চালানো হতো” এবং যুক্তি দিয়েছে যে, “বিশ্বের কোনো শক্তিই এই এলাকায় আমাদের ভূখণ্ডের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করতে পারবে না”।
ভৌগোলিক ধাঁধা
বিন্ট জেবেইল এমন এক ভৌগোলিক ধাঁধার কেন্দ্রে অবস্থিত, যা সমাধান করতে ইসরায়েলকে সংগ্রাম করতে হয়েছে।
মার্চের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যখন হিজবুল্লাহ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার জবাবে এবং তাদের আসন্ন বলে মনে করা একটি ইসরায়েলি আগ্রাসন প্রতিহত করতে রকেট হামলা চালায়।
ইসরায়েল পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে লেবাননের দিকে অগ্রসর হয়ে দেশটির ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে পৌঁছে যায়।
সুতরাং, সীমান্ত বরাবর যেকোনো অবিচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রণ এলাকার জন্য দুটি অক্ষকে আনুভূমিকভাবে সংযুক্ত করা প্রয়োজন ছিল।
বিন্ট জেবেইল না থাকায় পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় খণ্ডগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বাহিনীগুলো একটি সুসংহত ভূখণ্ড না হয়ে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি দলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল।
বিন্ট জেবেইল জেলা অবরোধের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর- ইসরায়েলিরা শহরটির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে।
ইসরায়েলি বাহিনী চারটি দিক থেকে অগ্রসর হয়েছে: আইন এবেল, সাফ আল-হাওয়া, ইয়ারুন এবং মারুন আল-রাস। তবুও, শহরের ভেতরের লড়াইটি কোনো প্রচলিত নগর দখলের মতো ছিল না।
এমইই-এর সূত্রানুসারে, ইসরায়েলি অগ্রযাত্রাটি বিন্ট জেবেইলের উপকণ্ঠে সীমিত সামরিক অনুপ্রবেশ, ভবনগুলোতে ফাঁদ পাতা এবং পথে যা কিছু এসেছে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ওপর নির্ভর করেছিল।
সূত্রগুলো জানায়, তারা বিস্ফোরক বোঝাই রিমোট-নিয়ন্ত্রিত চালকবিহীন ট্রাকও মোতায়েন করেছিল—এই কৌশলটি আগে গাজা সিটিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
ট্রাকগুলো হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সংঘর্ষের জন্য বাইরে টেনে আনত, এরপর সেগুলোর প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শক্তিতে গোটা এলাকা ধ্বংস করে দিত।
এটি ছিল একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, যা থেকে বোঝা যায় যে, ইসরায়েলিরা সরাসরি ও ব্যয়বহুল সম্মুখযুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল বলে এমইই-এর সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইসরায়েলিরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই যুদ্ধের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখিয়েছিল, যাতে শহরটি দখল করতে সফল হলে সেটিকে একটি সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্র
প্রকৃতপক্ষে, ইসরায়েলিরা শহরটির ভেতরে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
‘মাকড়সার জাল’ স্টেডিয়াম, যেখানে নাসরাল্লাহ ভাষণ দিয়েছিলেন, গ্র্যান্ড মসজিদ এবং ধর্মীয় স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
ইসরায়েলও শহরকেন্দ্রে পৌঁছাতে বা এর ভেতরে থাকা যোদ্ধাদের নির্মূল করতে পারেনি।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার আগে সংগঠনটির করা নিবিড় যুদ্ধক্ষেত্র পরিকল্পনারই প্রতিফলন ছিল এই লড়াই।
“বিন্ট জেবাইলে দলটি যে স্তরের প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ করেছিল তা বোঝানোর জন্য, শহরের ভেতরে থাকা [হিজবুল্লাহ] ইউনিটগুলো ৪০১তম ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের [ইসরায়েলি] কমান্ডারকে তার ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করে দুইবার হত্যা করার চেষ্টা করেছিল,” তিনি বলেন।
সে দুইবারই অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে এবং এখন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ আগে থেকেই ব্যাটালিয়ন ও এর কমান্ডারদের চিহ্নিত করেছিল, যা থেকে বোঝা যায় যুদ্ধে নিয়োজিত ইসরায়েলি ইউনিটগুলোকে তারা কতটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল।
সূত্র অনুসারে, বিন্ট জেবেইলের আল-আউইনি মহল্লায় একটি যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘হ্যানিবাল নির্দেশিকা’ কার্যকর করে এবং তাদের সৈন্যরা যাতে জীবিত ধরা না পড়ে তা নিশ্চিত করতে একটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।
“সৈন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর- এটি তাদের অবস্থানের প্রায় ২০ মিটারের মধ্যে গোলাবর্ষণ শুরু করে এবং অবশেষে তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়,” তিনি বলেন।
আমরা জানতাম যে, তাদেরকে বন্দী করার যেকোনো প্রচেষ্টাই এটিকে তার নিজের এবং আমাদের সৈন্যদের ওপর গোলাবর্ষণ করতে প্ররোচিত করবে।
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছে।
খিয়ামকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থতা
ইসরায়েল ও তার শত্রু উভয়ের জন্যই যদি বিন্ট জেবাইলের প্রতীকী তাৎপর্যের অর্থ হয় যে শহরটি সম্পূর্ণরূপে জয় করতে ইসরায়েলের অক্ষমতাকে একটি ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়, তবে খিয়ামের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে।
যদিও বিন্ট জেবেইল ইসরায়েলের জন্য পশ্চিম-পূর্ব সংযোগকারী হিসেবে কাজ করতে পারে, খিয়াম লেবাননের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সেখানেও ইসরায়েল চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
বিন্ট জেবেইলের মতো, এই স্থানটিও প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে, কারণ ১৯৮২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সময় এখানেই একটি কুখ্যাত ইসরায়েলি-সমর্থিত কারাগার পরিচালিত হতো, যেখানে বন্দীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হতো।
এমইই-এর সূত্র জানায়, ইসরায়েল খিয়ামকে পাশ কাটাতে, পুরোপুরি ঘিরে ফেলতে বা এর উত্তর দিক দখল করতে পারেনি।
এদিকে, তারা বলছেন, পশ্চিম বেকা উপত্যকা থেকে হিজবুল্লাহর সরবরাহ লাইন সক্রিয় ছিল।
এর ফলে ইসরায়েলিরা আরও অভ্যন্তরে অগ্রসর হতে পারেনি এবং সীমান্ত বরাবর একটি স্থিতিশীল ভূখণ্ড প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র মনে করে, বিন্ট জেবেইল ও খিয়ামে ইসরায়েলের অসুবিধাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, দক্ষিণ লেবাননে একটি কার্যত বাফার জোন প্রতিষ্ঠা করতে ইসরায়েলিদের বেগ পেতে হবে, এমনকি তা ১০ কিলোমিটারের চেয়েও কম দৈর্ঘ্যের হলেও।
বিন্ট জেবেইল ও খিয়ামের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না পেলে, ইসরায়েলের সৈন্যরা লেবাননের কতটা গভীরে অগ্রসর হতে পারবে তা সীমিত হয়ে পড়বে।
ইসরায়েলিদেরও বিচ্ছিন্ন সামরিক ঘাঁটি থাকবে, যার কাছাকাছি অরক্ষিত শহরাঞ্চল থাকবে এবং তারা হিজবুল্লাহর সরবরাহ পথ বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হবে।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো স্বীকার করেছে যে, সর্বশেষ যুদ্ধে ইসরায়েল ভূখণ্ডগত লাভ করেছে এবং দলটির বহু যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। কিন্তু তারা যুক্তি দেখান যে, সেই অর্জনগুলো কাঙ্ক্ষিত টেকসই নিয়ন্ত্রণ বলয়ে পরিণত হয়নি।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ দ্বিতীয় একটি সূত্র দাবি করেছে যে, বিন্ট জেবেইলের যুদ্ধের গুরুত্বকে আগে থেকেই ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলে ধরার ব্যাপারে ইসরায়েলের স্বার্থ ছিল।
“ইসরায়েলিরা ইচ্ছাকৃতভাবে এই যুদ্ধের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখিয়েছে, যাতে শহরটি দখল করতে সফল হলে সেটিকে সাফল্যের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়” তিনি বলেন।
বিন্ট জেবেইলের প্রতিরক্ষায় হিজবুল্লাহর অটল অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে সূত্রটি তুলে ধরেছে, কীভাবে ১৫ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে দলটির রাদওয়ান বাহিনী ইসরায়েলের ১০১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল।
“কয়েক মিনিটের মধ্যেই হিজবুল্লাহর তিনজন যোদ্ধা ১০ জন প্যারাট্রুপারকে গুলি করে হত্যা বা আহত করে” তিনি বলেন।
এই ঘটনাটি থেকে বোঝা যায় যে, হিজবুল্লাহ এই সংঘাতকে শুধু ভূখণ্ডের স্থির প্রতিরক্ষা হিসেবে নয়, বরং সহনশীলতা, গতিশীলতা এবং ইসরায়েলকে একটি নির্ণায়ক প্রতীকী সাফল্য থেকে বঞ্চিত করার সক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখে।

