তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফ্রান্স ও স্পেনে ছড়িয়ে পড়েছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ দাবানল। প্রথমে বনাঞ্চলে শুরু হলেও আগুন দ্রুত জনবসতির দিকে অগ্রসর হওয়ায় দুই দেশের কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সতর্কতা জারি করেছে এবং লাখো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং আটলান্টিক উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় সরকার বোর্দোসহ আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সময়ে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি শহরেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার মানুষের জীবন রক্ষা করা। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী একযোগে কাজ করছে।
দুই দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দুই লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু ফ্রান্সের ক্যাপ ফেরাত উপত্যকা থেকেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটিতে দাবানলে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর ভূমি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জিরোন্ড এলাকায়ই ৪০ হাজার হেক্টর বন ও ভূমি আগুনে ধ্বংস হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া জলবায়ু সংকটের গভীরতাকেই স্পষ্ট করে।
স্পেনেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশ ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি সেবার কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শনিবার কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যথেষ্ট হবে না। কারণ, শুকনো বনাঞ্চল, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের গতিপ্রকৃতি আগুনকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একত্রে এমন দুর্যোগকে আরও ঘন ঘন ও ভয়াবহ করে তুলছে।
বর্তমানে ফ্রান্স ও স্পেনের হাজারো দমকলকর্মী, উদ্ধারকারী দল এবং স্বেচ্ছাসেবক আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই দেশের সরকার জনগণকে সতর্ক থাকার, জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

