Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, আগস্ট 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবন, নাকি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি হাতে হস্তান্তর—কোনটি ঘটছে?
    বিশ্লেষণ

    বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবন, নাকি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি হাতে হস্তান্তর—কোনটি ঘটছে?

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একটি কারখানা বছরের পর বছর বন্ধ থাকলে সেটি শুধু উৎপাদন বন্ধ থাকা একটি ভবন নয়; সময়ের সঙ্গে সেটি জমি, যন্ত্রপাতি, অবকাঠামো, ঋণ, শ্রমিকের পাওনা এবং রাষ্ট্রের আটকে থাকা অর্থের একটি বড় প্যাকেজে পরিণত হয়। বাংলাদেশ এখন এমন ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এই উদ্যোগের সাফল্য শুধু কতটি কারখানা আবার চালু হলো, তা দিয়ে মাপলে হবে না। আসল হিসাব হবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের মূল্য কত ধরা হলো, বিনিয়োগকারী কী শর্তে সেটি পেলেন, পুরোনো দায় কে নিলেন, শ্রমিকের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা হলো এবং শেষ পর্যন্ত জনগণ কী পেল। কারণ সরকারি তথ্যই দেখাচ্ছে, তালিকাভুক্ত ৪৪টি সুযোগের সবগুলো বন্ধ কারখানা নয়; কিছু প্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও তাদের অব্যবহৃত বা ইজারা দেওয়া জমি বিনিয়োগের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে এটি শুধু ‘বন্ধ কারখানা চালু’ করার প্রকল্প নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শিল্পসম্পদের নতুন ব্যবহার নির্ধারণেরও একটি বড় উদ্যোগ।

    ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগে কত সম্পদ?

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার আওতায় ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের ৪টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের ১০টি, বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের ১৩টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের ১২টি এবং বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের ৫টি সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত জমির হিসাব যোগ করলে প্রায় ১০ হাজার ১০৯ একর জমি দাঁড়ায়, যদিও বিডা সামগ্রিকভাবে এটিকে ১০ হাজারের বেশি একর হিসেবে উল্লেখ করেছে। এসব জায়গার বড় অংশে আগে থেকেই সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। অর্থাৎ একজন নতুন বিনিয়োগকারীকে শূন্য থেকে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে না; পুরোনো রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ পাবেন। বিডা এসব সম্পদে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সবুজ ইস্পাত, ব্যাটারি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বস্ত্র, রাসায়নিক, প্যাকেজিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে। শুধু বিসিআইসির ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।

    সম্পদের প্রকৃত মূল্য কত?

    এখানেই প্রথম বড় প্রশ্নটি আসে রাষ্ট্রীয় সম্পদের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? কারণ শিল্পকারখানার ক্ষেত্রে শুধু জমির বাজারদর দিয়ে প্রকৃত মূল্য বোঝা যায় না। একটি কারখানার জমি হয়তো কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের, কিন্তু সেখানে বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাসলাইন, রাস্তা, ভবন, বন্দর বা বাজারের কাছাকাছি অবস্থান এবং পুরোনো যন্ত্রপাতির মূল্য যোগ করলে সম্পদের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য আরও ভিন্ন হতে পারে। আবার উল্টোভাবে পুরোনো ভবন ভাঙা, পরিবেশগত দায়, মামলা, ব্যাংকঋণ কিংবা শ্রমিকের পাওনা থাকলে সেই দায়ও সম্পদের প্রকৃত মূল্যকে প্রভাবিত করবে। বর্তমানে বিডার প্রকাশ্য বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জমির পরিমাণ, সম্ভাব্য ব্যবহার ও বিনিয়োগের ধরন দেওয়া হলেও প্রতিটি সম্পদের মূল্যায়ন, সংরক্ষিত মূল্য, মোট বকেয়া দায় বা সম্ভাব্য দায় এবং বিনিয়োগকারী বাছাইয়ের পূর্ণ নম্বরভিত্তিক কাঠামো প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে কোনো সম্পদ ইজারা বা বিক্রি হলে সেটি বাজারদরের তুলনায় কতটা যৌক্তিক ছিল সেটি যাচাই করার জন্য আলাদা তথ্য প্রকাশের প্রয়োজন হবে।

    বিক্রি, ইজারা নাকি পিপিপি কোন পথে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ?

    আরেকটি বিষয় হলো, ‘বেসরকারি বিনিয়োগ’ মানেই কিন্তু ‘রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি’ নয়। সরকারের আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি, যৌথ বিনিয়োগ এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি বিক্রির মতো একাধিক মডেল রয়েছে। এই পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইজারায় মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থেকে যেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহারের অধিকার চলে যেতে পারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে। পিপিপিতে রাষ্ট্র ও বিনিয়োগকারীর মধ্যে ঝুঁকি, আয় এবং দায়িত্ব ভাগ হয়। আর সরাসরি বিক্রি হলে মালিকানাই বদলে যায়। তাই ৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ধরনের চুক্তি না করে কোন সম্পদ কোন মডেলে দেওয়া হচ্ছে এবং কেন দেওয়া হচ্ছে সেটিই ভবিষ্যতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

    পুরোনো ঋণ ও দায়ের বোঝা কে নেবে?

    শুধু কারখানা চালু করলেই যে অর্থনৈতিক সাফল্য আসবে, সেটিও ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ২০২৬ সালের এপ্রিলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক আর্থিক প্রতিবেদনে ৯১টি অ-আর্থিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ৬ দশমিক ৩৯ লাখ কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য দায় প্রায় ১ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪টি প্রতিষ্ঠান ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ এবং ২৮টি ‘উচ্চ ঝুঁকি’ শ্রেণিতে রয়েছে। এই সংখ্যা অবশ্য ৪৪টি বিনিয়োগযোগ্য প্রতিষ্ঠানের দায় নয়; পুরো অ-আর্থিক রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের চিত্র। কিন্তু এটি একটি বিষয় পরিষ্কার করে কোনো রাষ্ট্রীয় শিল্পকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার আগে পুরোনো ঋণ, সরকারি ঋণ, সরবরাহকারীর পাওনা ও অন্যান্য দায় কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, সেটি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া দরকার।

    শ্রমিকের পাওনা ও কর্মসংস্থানের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ

    শ্রমিকের বিষয়টিও এখানে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। ২০২০ সালে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকলের উৎপাদন বন্ধের সময় প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের পাওনা পরিশোধে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে সরকার জানিয়েছিল। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সরকারি অর্থও বরাদ্দ হয়েছে। অর্থাৎ পুরোনো রাষ্ট্রীয় শিল্পের সমস্যা শুধু লোকসান বা পুরোনো যন্ত্রপাতি নয়; এর সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি, অবসর সুবিধা, গ্র্যাচুইটি, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান সবকিছু জড়িত। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৪টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি উৎপাদনে ফিরেছে বলে সংসদে জানানো হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় এসব কারখানায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলেও সরকার জানিয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরুজ্জীবনের বাস্তব উদাহরণ ইতিমধ্যে তৈরি হচ্ছে; এখন দেখার বিষয়, এই মডেল শ্রমিকের পুরোনো পাওনা, নতুন কর্মসংস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে কতটা সামলাতে পারে।

    সব কারখানা কি আবার আগের কাজেই ফিরবে?

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব জায়গায় পুরোনো কারখানাই আবার একই ধরনের উৎপাদনে ফিরবে এমন নিশ্চয়তা নেই। উদাহরণ হিসেবে বিডার তালিকায় লতিফ বাওয়ানি জুট মিল ও করিম জুট মিলের জায়গাকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের উদ্যোগের কথা রয়েছে। অর্থাৎ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো শিল্পের অবকাঠামোকে একই উৎপাদনে ফেরানোর বদলে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবহারে নেওয়া হতে পারে। অর্থনৈতিক যুক্তিতে এটি ভুল নয়; যদি পুরোনো কারখানাটি আর প্রতিযোগিতামূলকভাবে উৎপাদন করতে না পারে, তাহলে নতুন শিল্পে জমি ও অবকাঠামো ব্যবহার করাই বেশি লাভজনক হতে পারে। কিন্তু তখন সরকারের উচিত স্পষ্টভাবে বলা এটি ‘কারখানা পুনরুজ্জীবন’, নাকি ‘রাষ্ট্রীয় শিল্পসম্পদের পুনর্ব্যবহার’। এই দুটির অর্থনৈতিক ফল, কর্মসংস্থানের প্রভাব এবং সম্পদের মূল্যায়ন এক নয়।

    বেসরকারিকরণের পুরোনো অভিজ্ঞতা কী বলছে?

    বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতাও এখানে সতর্ক হওয়ার কারণ দেয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বেসরকারিকরণ নিয়ে গবেষণায় একেবারে একমুখী ফল পাওয়া যায়নি। ১৯৯১-৯৬ সময়ে বেসরকারিকরণ করা প্রতিষ্ঠান নিয়ে সি.এ.এফ. দৌলাহর গবেষণায় অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা উন্নতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল এবং সম্পদের অপচয় নিয়ে সমালোচনার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শাহজাদ উদ্দিন ও ট্রেভর হপারের গবেষণা একই সময়ের বেসরকারিকরণের ফল নিয়ে অনেক বেশি সমালোচনামূলক; তারা লাভের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, মজুরি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও রাষ্ট্রের রাজস্বে অবদানকে বিবেচনায় নিয়ে দেখিয়েছেন যে শুধু প্রতিষ্ঠান লাভ করছে কি না দিয়ে বেসরকারিকরণের সাফল্য বিচার করা যথেষ্ট নয়। আরেকটি গবেষণায় তানওয়ার আকরাম বেসরকারিকরণের পর অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি অবস্থার কথাও তুলে ধরেছিলেন। অর্থাৎ ইতিহাসের শিক্ষা হলো বেসরকারি মালিকানা নিজে কোনো জাদুর সমাধান নয়; ভালো চুক্তি, প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, শক্তিশালী নজরদারি এবং স্বচ্ছ হিসাব না থাকলে মালিকানা বদলালেও পুরোনো সমস্যার নতুন রূপ তৈরি হতে পারে।

    ভারতের সম্পদ মনিটাইজেশন থেকে কী শেখার আছে?

    এ কারণেই ৪৪টি রাষ্ট্রীয় শিল্পের উদ্যোগকে শুধু ‘বেসরকারি বিনিয়োগ আসছে’ এই দৃষ্টিতে দেখলে পুরো ছবিটি পাওয়া যাবে না। বিনিয়োগ এলে উৎপাদন বাড়তে পারে, কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, আমদানি-নির্ভর নতুন শিল্পের জায়গায় দেশীয় উৎপাদন বাড়তে পারে এবং বছরের পর বছর পড়ে থাকা অবকাঠামো অর্থনীতিতে ফিরতে পারে। আবার মূল্যায়ন দুর্বল হলে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র না হলে বা পুরোনো দায় রাষ্ট্রের ঘাড়ে রেখে সম্পদের ব্যবহারাধিকার কম দামে বেসরকারি হাতে চলে গেলে জনগণের সম্পদের প্রকৃত মূল্য ফেরত নাও আসতে পারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সংস্কারবিষয়ক গবেষণাতেও বলা হয়েছে, সব দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের পূর্ণ বেসরকারিকরণ কার্যকর সমাধান নয়; পুনর্গঠন, আংশিক বেসরকারি অংশগ্রহণ, উন্নত পরিচালনা ও শক্তিশালী জবাবদিহির মতো মডেলও বিবেচনায় রাখা দরকার।

    এখানে ভারতের অভিজ্ঞতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ তুলনা দেয়। দেশটি ২০২৬ সালে ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন ২.০ চালু করেছে, যেখানে সরকারি সম্পদের ব্যবহার থেকে আয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহারাধিকার দেওয়ার মডেল রাখা হয়েছে। ভারতের সরকারি কাঠামোতে সম্পদ মনিটাইজেশনের ক্ষেত্রে ইজারা, আয় ভাগাভাগি এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মতো ব্যবস্থা আলাদা করে দেখানো হয়েছে; অর্থাৎ সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য কাজে লাগানো এবং মালিকানা স্থায়ীভাবে বিক্রি করা একই বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ লক্ষ্য যদি হয় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা সম্পদকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা, তাহলে সব ক্ষেত্রে সরাসরি বিক্রি না করে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, পিপিপি বা আয় ভাগাভাগির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আয়ও ধরে রাখার সুযোগ আছে।

    শেষ হিসাবটা হবে রাষ্ট্র কতটা মূল্য পেল

    শেষ পর্যন্ত ৪৪টি শিল্পের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ‘কত টাকা বিনিয়োগ এলো’ নয়, বরং রাষ্ট্র কতটা মূল্য পেল। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জমি ও অবকাঠামোর স্বাধীন মূল্যায়ন, পুরোনো ঋণ ও দায়ের পূর্ণ হিসাব, শ্রমিকের পাওনা নিষ্পত্তির অবস্থা, বিনিয়োগকারীর আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা, চুক্তির মেয়াদ, সরকারের আয় ভাগাভাগি, কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার শর্ত এসব তথ্য প্রকাশ্য হলে তবেই সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সত্যিই অর্থনীতিতে ফেরত যাচ্ছে, নাকি শুধু মালিকানা বা ব্যবহারের অধিকার বদলাচ্ছে। ৪৪টি কারখানা তাই শুধু শিল্প পুনরুজ্জীবনের প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কতটা স্বচ্ছ, বাজারভিত্তিক এবং জনগণের স্বার্থকেন্দ্রিক হতে পারে তারও একটি বড় পরীক্ষা।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাণিজ্য

    দুই বছরেই লাভজনক চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ, বাড়ছে ট্রেনের চাপ

    আগস্ট 13, 2026
    বাংলাদেশ

    ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থিতার পর মন্ত্রিসভায় রদবদল

    আগস্ট 13, 2026
    বিশ্লেষণ

    আইন ভাঙার পৃথিবীতেই আইনজীবীর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি

    আগস্ট 13, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.