সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্তত ৫০টির বেশি আসনের ভোটের ফল হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আদালত ইতিমধ্যেই ৪৮টি আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আসনের ব্যালট সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি আসনের একটির ফল চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
অবিলম্বে আরও কয়েকটি আসনের ফল চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ উঠেছে, ভোটে কারচুপি হয়েছে। ফল চ্যালেঞ্জ করা প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী, অনিয়মের অভিযোগের শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বর্তমানে বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ২৬, জামায়াতে ইসলামীর ২০ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এলডিপির একজন করে প্রার্থী মামলা করেছেন।
বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করেছেন ময়মনসিংহ-২ আসনের মোতাহার হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৬ আসনের মো. আখতারুল আলম, মাদারীপুর-১ এর নাদিরা আক্তার, চুয়াডাঙ্গা-১ এর মো. শরীফুজ্জামান, ঢাকা-১১ এর এম এ কাইয়ুম, কুষ্টিয়া-৪ এর সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ঢাকা-৫ এর মো. নবী উল্লাহ, গাইবান্ধা-৫ এর মো. ফারুক আলম, পাবনা-৩ এর মো. হাসান জাফির তুহিন, সিরাজগঞ্জ-৪ এর আকবর আলী, কুমিল্লা-১১ এর কামরুল হুদা, ঢাকা-৪ এর তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা-১৬ এর আমিনুল হক, ময়মনসিংহ-১ এর সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, কুড়িগ্রাম-২ এর সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, রংপুর-৬ এর সাইফুল ইসলাম, রংপুর-৪ এর এমদাদুল হক ভরসা, রাজশাহী-১ এর মে. জে. (অব.) মো. শরীফউদ্দিন, রাজশাহী-৪ এর ডিএমডি জিয়াউর রহমান, পাবনা-৪ এর হাবিবুর রহমান হাবিব ও শেরপুর-১ এর সানসিলা জেবরিন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে চ্যালেঞ্জ করেছেন খুলনা-৫ আসনের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কক্সবাজার-মহেশখালীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, ঢাকা-১০ এর জসিমউদ্দিন সরকার, পিরোজপুর-২ এর শামীম সাঈদী, বরগুনা-২ এর ডা. সুলতান আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ-২ এর ইলিয়াছ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৩ এর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, লালমনিরহাট-১ এর আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, লালমনিরহাট-২ এর ফিরোজ হায়দার, ঢাকা-৬ এর আব্দুল মান্নান, গাইবান্ধা-৪ এর মো. আব্দুর রহিম সরকার, ঢাকা-৭ এর মো. এনায়েতউল্লাহ ও কক্সবাজার-৪ এর নূর আহমেদ আনোয়ারী।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের এলডিপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহম্মেদের পক্ষে তার ছেলে ওমর ফারুক এবং ঢাকা-১৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও ফল চ্যালেঞ্জ করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, আদালতের বিবেচনাধীন বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করা অনুচিত। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের ৫০টির বেশি মামলার মধ্যে হয়তো এক বা দুইটি জেনুইন। বাকি মামলাগুলো সাধারণত পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের সান্ত্বনা দেওয়ার বা বিজয়ী প্রার্থীকে বিব্রত করার জন্য করা হয়।
আইনজ্ঞরা বলছেন, এসব মামলা দেওয়ানি প্রকৃতির। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রী। কখনো মামলা শুরুতেই বাতিল হয়, আবার কখনো রুলের ওপর শুনানি শেষে নিষ্পত্তি হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেয়াদের পাঁচ বছর শেষ হয়ে যাওয়ার আগে মামলা সম্পন্ন হলেও পরাজিত পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। ফলে এই মামলা দীর্ঘদিন আদালতে ঝুলে থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ালে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করলে বাদী ও সাক্ষীরা আগ্রহী থাকবেন এবং মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমবে।

