প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় সরকার বড় আকারের প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বছরে ২ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি খাতে উন্নয়ন বাজেট থেকে ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন খাতের চলমান কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আটটি বিভাগে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হবে। প্রকল্পটি সফল হলে আগামী অর্থবছর থেকে এর পরিধি বাড়ানো হবে এবং ধাপে ধাপে আরও বেশি কৃষককে এর আওতায় আনা হবে। কৃষিঋণ সহজলভ্য করতেও এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, জলমহল ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও স্বচ্ছ করতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে জেলে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং বিদ্যমান ইজারা প্রথা বিলুপ্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক কার্যক্রম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, চলতি বছর ৭৮ হাজার ৮০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। ইতোমধ্যে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে হাম রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। টিকার পূর্ণ কার্যকারিতা পেতে কিছুটা সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
দুর্যোগ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য ভূমিকম্প মোকাবেলায় ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং ভবন নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নারী ও শিশু সুরক্ষায় নতুন সংশোধিত আইন অনুমোদনের কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। এই আইনে দ্রুত বিচার, সাক্ষী সুরক্ষা এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং প্রতিরোধে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

