ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যাচাই–বাছাই শেষে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যেখানে কারণ হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর আইনজীবী অঙ্গনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়, সমিতির গঠনতন্ত্র ও সাম্প্রতিক নির্দেশনার ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী, যাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়।
গত বুধবার মনোনয়ন যাচাই শেষে এ তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং পরদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে আইনজীবী মহলে প্রতিক্রিয়া আরও বাড়ে। কেউ কেউ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অন্যরা এটিকে গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে দেখছেন।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের তালিকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা রয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে বদর উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি পদে দিদারুল ইসলাম, এ কে এম কামাল হোসেন খান ও মিজানুর রহমান তালুকদার রয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে এমদাদুল হকের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছে। সহসম্পাদক, অডিটর ও সদস্য পদসহ মোট ১৬ জন এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন।
স্থানীয় আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে একাধিক প্রার্থী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাবি করেছেন এবং বলেছেন যে তারা কোনো সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একজন সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে আইন পেশায় যুক্ত হন। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না, যদিও অতীতে একটি প্যানেল নির্বাচনে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
নির্বাচন সূচি অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়া হয় ১৩ এপ্রিল, যাচাই–বাছাই ১৫ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক নির্দেশনার কারণে সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার নোটিশে গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা ও নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া এমদাদুল হক এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছেন। তার মতে, গঠনতন্ত্রে এমন ব্যাখ্যার সুযোগ নেই, ফলে সিদ্ধান্তটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের আইনজীবীদের নিয়ে একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবী সমিতির ভেতরে বিভাজন ও বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। অনেকের মতে, শুধু প্রার্থিতা নয়, বরং গঠনতন্ত্রের ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণের প্রক্রিয়াও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

