সাংবাদিকতা পেশার দক্ষতা উন্নয়ন, নেটওয়ার্কিং এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে আগামী ৮ ও ৯ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’। দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আয়োজনটি করছে গণমাধ্যমবিষয়ক সংস্থা মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)।
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্মেলনে বিশ্বের অন্তত ১০টিরও বেশি দেশের সাংবাদিক, গবেষক ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। এতে সাংবাদিকতার সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং পেশাগত মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্মেলনে মোট ১২টি সেশন থাকবে। প্লেনারি ও থিমেটিক আলোচনার পাশাপাশি মাস্টারক্লাসেরও আয়োজন করা হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও ধারণা নিতে পারবেন। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০০ ছাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্মেলনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্য অধিকার, ফ্যাক্ট-চেকিং, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণমাধ্যম, ডিজিটাল নিউজরুমের রূপান্তর এবং ডেটা-ভিত্তিক সাংবাদিকতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের জবাবদিহি, স্ব-নিয়ন্ত্রণ ও সংবাদ পরিবেশের স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক সংস্থা জানায়, সম্মেলনস্থলে চারটি বিশেষ হেল্পডেস্ক থাকবে—অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, তথ্য অধিকার, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বিষয়ক সেবা প্রদানের জন্য।
১৭ এপ্রিল রাত থেকে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিবন্ধন চলবে ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে, তবে চূড়ান্ত অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করবে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিক, শিক্ষক, গবেষক, ফ্যাক্ট-চেকার, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এতে আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, এমআরডিআইয়ের প্রাথমিক সাংবাদিকতা কোর্স সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে ১৫ জন সাংবাদিককে ফেলোশিপ দেওয়া হবে। নির্বাচিত ফেলোরা স্টোরি আইডিয়া জমা দিয়ে মেন্টরশিপ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। কিছু ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির ব্যয়ও সংস্থা বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, প্রতি দুই বছর পরপর এই ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

