দেশে হামের সংক্রমণ আবারও বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত টিকা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের সেবা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে রোগ নিয়ন্ত্রণে বাধা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি একটি নীতিগত আলোচনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে নীতি, অর্থায়ন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, টিকা কেনা ও সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে সময়মতো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় টিকা সংগ্রহের পরিকল্পনা থাকলেও ফাইল অনুমোদন ও সমন্বয়জনিত বিলম্বে মাঠপর্যায়ে টিকা পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। ফলে টিকা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের কাছে তা সময়মতো পৌঁছায়নি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে হামের রোগী উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে শতাধিক সন্দেহভাজন রোগী ভর্তি হয়, যাদের বড় অংশই নিম্ন আয়ের ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার শিশু। অনেকেই টিকা নেননি বা আংশিক টিকা পেয়েছেন।
তারা আরও জানান, আগের বছরের তুলনায় এবারের সংক্রমণে জটিল রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এতে দ্রুত একটি দেশব্যাপী হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক কাঠামোগত পরিবর্তনও সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের কর্মসূচি বন্ধ করে প্রকল্পভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা, ক্রয় প্রক্রিয়া ও সেবা প্রদানে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসনিক ধীরগতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে সামাজিক উদ্বেগ ও আতঙ্ক। চিকিৎসকদের মতে, অনেক অভিভাবক ভয় ও গুজবের কারণে সময়মতো চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন, যার ফলে রোগ জটিল হয়ে পড়ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু সংকট মোকাবিলা নয়, দীর্ঘমেয়াদে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা।
তাদের মতে, টিকা থাকলেও সঠিক বিতরণ ব্যবস্থা না থাকলে কোনো জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিই সফল হতে পারে না। তাই ভবিষ্যতে সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে এ ধরনের সংকট পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

