মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সকালে হঠাৎ করেই কেঁপে উঠেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ঘুম ভাঙার পর অনেকেই টের পেয়েছেন মৃদু দোলনের মতো কম্পন, যা মুহূর্তের জন্য হলেও তৈরি করেছে আতঙ্ক।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তি বাংলাদেশে না হলেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫, যা মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা আর্থকোয়াক ট্র্যাক জানিয়েছে, এর কেন্দ্রস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকায়, যা ভারতের মণিপুর সীমান্তের খুব কাছাকাছি। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হওয়ায় এর কম্পন তুলনামূলকভাবে কম তীব্রতায় ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলেও হালকা কাঁপন অনেক জায়গাতেই অনুভূত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পটি গভীরে উৎপন্ন হওয়ায় এর প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও তীব্রতা কম ছিল। এজন্যই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি অনুভূত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ বড় কোনো সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত না হলেও, এর আশপাশের অঞ্চলগুলো অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। বিশেষ করে মিয়ানমার এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের এলাকা নিয়মিত ভূমিকম্পের জন্য পরিচিত। ফলে এসব অঞ্চলে ভূমিকম্প হলেই তার প্রভাব বাংলাদেশে এসে পড়া অস্বাভাবিক নয়।
এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ভূমিকম্পের গভীরতা। ১০০ কিলোমিটার গভীরে উৎপন্ন হওয়ায় এর কম্পন ছড়িয়ে পড়লেও শক্তি অনেকটাই ক্ষয় হয়ে যায়, ফলে বড় ধরনের ধ্বংসের সম্ভাবনা কমে যায়।
তবে এমন ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশ পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। আশপাশের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোর কারণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সচেতনতা এবং প্রস্তুতিই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

