কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের আদালত। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আদালত এই আদেশ দেন। আইনি নোটিশ ও একাধিক মানহানি মামলার ধারাবাহিকতার মধ্যেই নতুন এই পরোয়ানা জারির ঘটনা সামনে এলো।
এর আগে গত ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে আমির হামজা মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি মামলা দায়ের হয়।
একটি মামলার বাদী জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ বলে উল্লেখ করেন, যা মানহানিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
একই অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আরেকটি মানহানি মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
এদিকে গত ১৩ এপ্রিল কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বদলি নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করেও বিতর্ক তৈরি হয়। সেখানে আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান ডিসি এখানে বদলি হয়ে আসতে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এই বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ মার্চ হরিপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা দিয়ে ডিসি বদলি করানো হয়েছে—এমন বক্তব্যের সপক্ষে তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম জনসম্মুখে জানাতে হবে।
সব মিলিয়ে ধারাবাহিক আইনি জটিলতার মধ্যেই এখন সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

