দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। চলতি কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে, আর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই সুরক্ষার আওতায় আনা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ জন শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রম নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগোচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে লক্ষ্য অর্জনে শেষ পর্যায়ে আরও দ্রুতগতিতে কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন হবে। একই ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা দেশের চলমান খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মোট ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৬১ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আগামী বছর আঞ্চলিক পর্যায়ে নববর্ষ উদযাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়।
এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক কূটনীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতে সহায়ক হবে। সরকারের মতে স্বাস্থ্য, উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি—এই তিন ক্ষেত্রেই সমন্বিত অগ্রগতির মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

