দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে সরকারের কোর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব কেএম ইয়াসির আরাফাত। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সভাপতি করে এই নতুন কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ), ডিজিএফআই, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, এনএসআই, এনটিএমসি, র্যাব, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পর্যায়ের প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক)।
প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধিও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করবে এই কমিটি। পাশাপাশি পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে।
এছাড়া জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারকি ও পর্যালোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বাহ্যিক নিরাপত্তা বিষয়গুলোও কমিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে এই কমিটি।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কর্মকর্তাকে কমিটির সভায় ডাকা যাবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কমিটির সভাপতি প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করতে পারবেন। সব সভার সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ লিখিত আকারে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে যথাসময়ে অবহিত করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কমিটির সব ধরনের আলোচনা, সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। তবে সভাপতির অনুমোদন ছাড়া এসব তথ্য বাইরে প্রকাশ করা যাবে না।

