নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ডাকাতি নয়—জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ডাকাতি নয়—জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জেলার পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১৭ বিঘা জমি নিয়ে পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। এর মধ্যে ১২ বিঘা জমি ছেলে হাবিবুর রহমানের নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
পুলিশের ধারণা, এই জমির নিয়ন্ত্রণ নিতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে হত্যার পরিকল্পনা করে থাকতে পারেন। যদিও তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আগে থেকেই একাধিক মামলা চলমান ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ছয়জন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে হাবিবুর রহমানের এক ভাগ্নে ও ভগ্নিপতিকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি বলেন, ঘটনার ধরন দেখে এটি ডাকাতির ঘটনা নয় বলে মনে হচ্ছে। সাধারণত ডাকাতরা দ্রুত লুটপাট করে চলে যায়, কিন্তু এখানে পরিবারের শিশুদেরও হত্যা করা হয়েছে—যা এ ধরনের অপরাধে বিরল।
উল্লেখ্য, গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে নিজ বাড়িতে হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাদের দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই নির্মম ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
