দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল আসছে। চলতি মাসে এটি তৃতীয় চালান, যা দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
২২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ২৩:০৬ মিনিটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড তেল ডিপোর রিসিপ্ট টার্মিনালে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে এই ডিজেল পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী রবিউল আলম জানিয়েছেন, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। সাধারণত ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টার মধ্যে এই জ্বালানি পার্বতীপুরে এসে পৌঁছে যায়।
এর আগে ১৯ এপ্রিল একই পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন এবং ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন ডিজেল দেশে আসে। অর্থাৎ, চলতি মাসেই এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ হয়েছে। এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু এপ্রিল নয়, চলতি বছরের শুরু থেকেই এই পাইপলাইন দিয়ে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আসছে। মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে মোট ২২ হাজার টন ডিজেল দেশে পৌঁছায়। সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। এই জ্বালানি পরবর্তীতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পাইপলাইন একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে তেল পরিবহন করতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত। কিন্তু পাইপলাইন ব্যবস্থার ফলে এখন অনেক কম সময়ে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি শুরু হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর ভারত বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহ করবে। প্রতি বছর ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির সুযোগ রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানো যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাইপলাইন শুধু জ্বালানি সরবরাহ সহজ করেনি, বরং সময় ও পরিবহন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এটি একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

